-: advertisement :-

অদ্ভুত ভূতের গল্প


তখন রাত বেশী নয়। সবে নটা।।

আমাদের গ্রামের দামােদর চক্রবর্তী ক’দিন রােগভােগের পর মারা গেল। একটা ডেথ সার্টিফিকেট চাই শবদাহ করার জন্য। নিয়ম অনুসারে অঞ্চল প্রধান দেবেন এই সার্টিফিকেট। সে-সময় আমাদের অঞ্চল প্রধান ছিলেন অমিয় দাস। আমারই ওপর দায়িত্ব পড়লাে এই সার্টিফিকেট আনার জন্য। না’ বলা চলে না এক্ষেত্রে, সুতরাং যেতেই হলাে।

অমিয় আবার ছােটবেলার বন্ধু। ছাত্র হিসাবে বেশ মেধাবীই ছিল। তার বাড়িতে বহুবার গেছি। কিন্তু অন্য বারের যাওয়া আর আজকের যাওয়া এক নয়। আজ যাচ্ছি একজনৈর ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে এক্ষুণি ফিরে আসতে হবে, তবে শব নিয়ে দাহ করতে রওনা হবে গামুইয়া। " মৌখালির মােড় থেকে শর্টকাট রাস্তা ধরলাম। অল্প অল্প জ্যোছনায় দিব্যি রাস্তা দেখা যাচ্ছে, অতএব সঙ্গে কোনাে আলাে নিলাম না। সঙ্গীও নেই কেউ। | মাঝপথে সেই বিশালাক্ষীতলা। একটা বট আর এক্যা অশথ গাছ পাশাপাশি এমনভাবে মাথা উঁচু করে ডালপালা মেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে-যেন বিরাট একটা দোতলা বাড়ি। দূর থেকে দেখলে ঐ রকমই মনে হবে। সামনেটা ফাঁকা। মাঝে মাঝে এখানে পুজো হয়। বেশ ভিড় হয় তখন আশেপাশের লােকের।

নাকটা? কী করছে ।

কাছাকাছি এসে থতমত খেয়ে গেলাম। ওকি। কে লােকটা? কী ক ওভাবে উবু হয়ে বসে?

বললাম—কে? কে গা? সে বললে—আমি নন্দগয়লা গোঁ। —কি করছে ওখানে? —গাই দুইছি।

|

সে

' একটু আশ্বস্ত হলাম লােকটার কথা শুনে। কিন্তু নন্দ গয়লা লােকটাকে আমি চিনতাম না। সুতরাং বাড়তি কিছু জিজ্ঞাসা করার প্রয়ােজনও অনুভব করলাম ।

লােকটা গাই দুইছে। বালতিতে দুধ পড়ার শব্দ হচ্ছে চুকচুক করে। আমি এগিয়ে চললাম।

নন্দ বললেহঁ গোঁ, দাঁমােদরের মড়াটা কি নিয়ে গেছে পোড়াতে? বললাম—দামােদর চক্রবর্তীকে চেনাে তুমি? নন্দ বললে—বিলক্ষণ চিনি। এই তো একটু আগেই আঁমার কাছে এসেছিল। —তােমার কাছে এসেছিল। কে এসেছিল ?

—ঐ তােমাদের দমােদর। বললে, মার বাঁচলুম নন্দদা, বঁড় কষ্ট পাচ্ছিলাম। অনেক দিন ধরে ভুগছি বলে, বাড়ির লোকেরা আঁজকাল তেঁমন যত্ন-আত্তি করতে না। মরে বাঁচলুম।

নন্দ গয়লা লােকটা পাগল নাকি? মনে মনে বললাম—পাগল কি গাছে ফলে? যে লােকটা আজ রাত আটটায় দেহ রেখেছে, সে কিনা ঐ ব্যাটা গয়লার . সঙ্গে মরার পর দেখা করে গেছে! যত্তো সব।

আবার পা বাড়িয়েছি, পিছু ডাকলাে—এই যে, শোননা না গো ভাই।। দাঁড়াতে হলাে। বললাম-“বলল কি বলবে। নন্দ বললে—দাঁমােদরের বৌটারও একটা সার্টিফিকেট এঁনাে।। -কী বলছাে পাগলের মতাে। তার স্ত্রী তাে এখনাে জীবিত। - তা জীবিত। কিন্তু তুমি এঁসে দেখবে যে পটল ঠুলেছে।

নাঃ, সত্যিই পাগল লােকটা। দিব্যি ভালাে মানুষ, বলে কিনা তার ডেথ

সার্টিফিকেট এনােয়

• পাগলের প্রলাপ শােনার জন্য আর দাঁড়ালাম না। পা চালিয়ে দিলাম জোরে জোরে।

অমিয়র বাড়িতে যখন পৌছলাম তখন রাত প্রায় দশটা। খাওয়া দাওয়া সেরে শােবার আয়ােজন করছে অমিয়। আমি ডাকতে সাড়া দিয়ে বললে—কে? নাম বললাম। বলতে আমায় ভেতরে ডাকলে। বললে—কি ব্যাপার রে? এতাে রাতে? বললাম সব। অমিয় সার্টিফিকেট লিখে দিলে। . আমি বললাম যারে অমিয়, নন্দ গয়লা বলে কাউকে চিনিস তুই? - অমিয় বললে—চিনবাে না কেন? কিন্তুসে তাে মাস তিনেক আগে মারা। গেছে।

মারা গেছে! অমিয় বললো । কিন্তু কেন রে? | যা ঘটেছে একটু আগে, সব বললাম অমিয়কে। সব শুনে অমিয় বললেতুই তাহলে ভূতের পাল্লায় পড়েছিলি রে। খুব জোর বেঁচে গেছিস। ফেরার সময় ও-পথ দিয়ে ফিরিস না—সেই পাকা রাস্তা ধরে চলে যাবি।।

আমি চলে আসবাে বলে সবে উঠেছি, এমন সময় আমার দুই ভাইপাে পঞ্চু আর মাধু এসে হাজির। আমি তাে অবাক। বললাম কি রে, তােমরা আবার এলি কেন!

| আমার প্রশ্নের উত্তরে তারা যা বললে, তা শুনে আমি তাে হতবাক হয়ে . পড়লাম। বললে তারা—এই একটু আগে বাবা ঠাকুরের স্ত্রী হার্টফেল করে মারা গেছে। তার জন্যেও একটা সার্টিফিকেট চাই। তাই এলাম আমরা।

আমার মুখে আর কোনাে কথা সরে না—যেন বাকশক্তি রহিত হয়ে। পড়েছি। | অমিয় বললে-ঘঁ, ওর জন্য আলাদা সার্টিফিকেট চাই। তােমরা বললা— এখনি দিচ্ছি।

আমি তখনও ভেবে চলেছি, নন্দ গয়লা কি করে জানলাে যে বাবা ঠাকুরের স্ত্রী আজই মারা যাবে? পরক্ষষরই মনে হলাে, ওদের তাে কিছু অজানা থাকার

কথায়। ওরা সব জানতে পারবে, সব দেখতে পাবে। ওরা ভূত-অশরীরী আত্মা। ওরা জানতে না এমন নয়। সার্টিফিকেট নিয়ে আমরা চলে আসবাে, এমন সময় আম

লে আসবাে, এমন সময় অমিয় আবার বল । ও-পথে যাবি নাকিন্তু, পাকা রাস্তা ধরে চলে যাবি। যদি টর্চ দরকার হয় তাে আমার টর্চটা নিয়ে যা। কাল কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দিস। | বললাম না, থাক, টর্চ আর দরকার হবে না।

পথে নামলাম।

তখনও আমার মনের মধ্যে গুমরে বেড়াচ্ছে নন্দ গয়লার সেই কথাটা | খুঁমি এঁসে দেখবে সে পটল কুঁলেছে..।


Author : তারা কুমার ভট্টাচার্য
Date : 2019-07-14 08:10:12

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-:Advertisement:-