-: advertisement :-

রাজার ছেলের জীবন দান


রাজপুত্রের নাম অশােক কুমার। বয়স মাত্র তিন বৎসর। রাজপুত্রকে নজরে রাখবার জন্য রাজবাড়ীর দাসীর অভাব নেই। বুড়াে বয়সে রাজার অনেক যাগযজ্ঞ এবং তপস্যার ফলে একটি পুত্রের জন্ম হয়েছে। অতএব রাজপুত্র যে রাজা-রাণীরনয়নের মণি হবে তা আর অস্বাভাবিক কিছুনয়।

রাজপুত্রের সেবা-যত্নের জন্য বহু দাসীকে তৎপর হয়ে থাকতে হতাে।

| কিন্তু যেখানেই যত বেশী সাবধানতা সেখানেই সামান্য একটু অসাবধানতার ফলে অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে।

| একদিন দুপুরবেলা দাসীরা বসে গল্প করছিল। রাজকুমার একা একাই ছােট ছােট পা ফেলে ফুলবাগানের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল। একটা গােলাপ গাছের নীচে এক বিষধর সাপ ফণা তুলে বসেছিল। সাপ সম্বন্ধে ওইটুকু ছেলের কোন ধারণা ছিল না।'

সে আনন্দে সাপের মাথায় দুবার চাপড় মারবার পর, বিষধর সাপটি ফোস করে রাজপুত্রকে এক ছােবল মেরে গর্তের ভেতর ঢুকে পড়ল।

বিষধর সাপের দংশনে তীব্র বিষের জ্বালায় রাজপুত্র বাগানের এক কোণে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।

দাসীদের গল্পের আসর ভাঙতেই রাজপুত্রের খোঁজ পড়ল। | একজন দাসী বলল,-ভাবনার কিছু নেই। রাজকুমার ফুলবাগানে আনন্দে

খেলা করছে। অরুণা দাসীফুলবাগানে খুঁজতে এসে দেখল রাজকুমারের সারা দেহ। #ল। দেহে প্রাণের স্পন্দন নেই। | সে তাড়াতাড়ি রাজকুমারকে বুকে তুলে নিয়ে রাজপ্রাসাদে ছুটল। রাজাবাণী কপালে করাঘাত করতে লাগলেন।

বিধাতার কিনিষ্ঠুর বিধান। অনেকদিন বাদে রাজা যদিও বা একটি পুত্রসন্তান লাভ করেছিলেন – সেও সর্পদংশনে মারা গেল। এর থেকে পুত্র না হওয়াই ভাল ছিল। অন্ততঃ পুত্র শােকের জ্বালায় ভুগতে হত না।

| রাজবৈদ্য এসে রাজপুত্রকে পরীক্ষা করে বললেন,—আর কোন উপায় নেই। আমার দ্বারা রাজপুত্রকে বাঁচান সম্ভব নয়, এর প্রাণবায়ু বেরিয়ে গেছে।

| তিনি রাজপুত্রের মুখ চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন। সারা রাজপুরীতে কান্নার রােল উঠল। রাজারানী শােকে মুহমান হয়ে পড়লেন।

রাজাবাড়ীর বুড়ি দাসী বলল, এখনও সূর্যাস্ত হয়নি। সূর্যাস্তের আগেই যদি রাজকুমারকেনিয়ে মাইল দূরেরনাগাশ্রমে যাওয়া যায়, তা হলেনাগাশ্রমের শ্বেতকেতু মুনি নিশ্চয়ই রাজপুত্রকে বাঁচিয়ে তুলতে পারবেন।

বুড়ি দাসীর কথা শুনে রাজা তখন সারথিকে রথ আনতে বললেন। সর্পদষ্ট রাজপুত্রকে কোলে তুলে নিল অরুণা দাসী। রাজা রানীরথে এসে বসলেন।সূর্যাস্তের এখনও অনেক বাকি। সাত মাইল পথ, সারথি দুরন্ত বেগে রথের ঘােড়া ছুটিয়ে দিল। . .

সূর্যাস্তের অনেক আগেই তারা নাগাশ্রমে পৌঁছে গেলেন। সাতজন মহিলা ছেলে কোলে নিয়ে,সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেপর পর মুনির আহবানের অপেক্ষায়।

| নাগাশ্রমে একজন সাধু রাজাকে বললেন,-বড় দেরি করে ফেলেছেন, আজ আর কোন উপায় নেই। | রাজা বললেন – কেন? সূর্যাস্তের এখনও অনেক দেরি আছে।

. সূর্যাস্তের দেরি আছেবটে। কিন্তু একদিনে শ্বেতকেতু মুনি শুধু সাতজনকেই মন্ত্র পড়ে জীবন্ত করতে পারেন! ওই দেখুন, সাতজন মহিলা শিশুপুত্র কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এখানে রাজা বা প্রজার কোন ভেদ নেই।ও শেষের মহিলাটি মাত্র। কিছুক্ষণ আগে এসেছে, আপনি যদি আর কিছুক্ষণ আগে আসলে তাহলেও হতাে। এখন কেউ স্থান ছেড়ে না দিলে আর উপায় নেই।

রাজা বললেন,—বিধাতার বিধান অমােঘ। নিজের পুত্রের জীবনের জন্য আমি | অন্যের সন্তানের বাঁচার সম্ভাবনাকে নষ্ট করতে পারিনা। . কিন্তু অরুণা দাসী রাজপুত্রকে কোলে নিয়ে রথ থেকে নেমে বলল, কারও

জীবন ফিরিয়ে আনা যায় আমি একবার চেষ্টা কোন ক্ষতি না করে যদি রাজপুত্রের জীবন ফিরিয়ে আনা যায় দেখি। | অরুণা দাসীনাগাশ্রমের দ্বারদেশে গিয়ে দেখল, শেষ মহিলাটি আর কেউ নয় তার নিজের বােন বরুণা বরুণার তাে বিয়ে হয়নি, তবে কোলে কে? কোলে অরুণারই শিশুকন্যা প্রতিমা। শিশুকন্যা প্রতিমার রক্ষণাবেক্ষণের ভার বরুণার উপর ছেড়ে দিয়ে অরুণা রাজবাড়িতে কাজ করতে আসতাে! । কিন্তু আজ বরুণার অসাবধানতার ফলে প্রতিমাকেও সাপে দংশন করেছে।বরুণা অরুণাকে কোন কথা না জানিয়ে পায়ে হেঁটে নাগাশ্রমে পৌঁছেছে।

| আজঅরুণার অসাবধানতার ফলেই রাজপুত্রের এই দশা। অরুণা নিজের কন্যার ~-বিনিময়ে সে রাজপুত্রের জীবন ফিরিয়ে আনবে, এই তার সঙ্কল্প।

..' একে একে সকলেরই ডাক পড়ল। বরুণা রাজপুত্রকে নিয়ে শ্বেতকেতু মুনির কাছে এগিয়ে গেল, মুনি মন্ত্র পড়ে জল ছিটিয়ে দিতেই রাজপুত্র বেঁচে উঠল।। * অরুণা প্রতিমাকে বরুণার কোলে সঁপে দিয়ে রাজপুত্রকে কোলে নিয়ে রথে ফিরে এল। রাজপুত্র জীবন ফিরে পেয়েছে দেখে রাজা-রানীর আনন্দ ধরে না। কিন্তু অরুণার চোখে জল কেন?


Author : তারা কুমার ভট্টাচার্য
Date : 2019-07-14 07:11:32

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-:Advertisement:-