-: advertisement :-

ভূতের বিয়ে


জিয়ন্বত নামে একটা গামে একটা বট গাছে এক শাকচুন্নী বাস করে। শাকচুন্নী। সেখান থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে, মানুষেরা কেমন সুন্দর বিয়ে করে পাল্কী, রিকসা । কিংবা ট্যাকসি চড়ে বিয়ে করে যে যার বাড়ী যায়। ঐরকম তারও ইচ্ছা হয় বিয়ে করে

একটু সুখে পরমানন্দে সংসার করে, কিন্তু দুঃখ শুধু এই যে শাকচুন্নিটা তেমন পরমা . সুন্দরীনয়। তার গায়ের রঙ ভীষণ কালো,দাঁতগুলাে ভীষণ উঁচু উঁচু। তাকে দেখলে সবাই ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় দূরে। এমন অবস্থায় তার কি সহজে বিয়ে হবে?

শাঁকচুন্নী যত ভাবে তত কাঁদে।এমনি আমি হতভাগী যে আমাকে কেউ একটুকু করুণা করে কি বিয়ে করবেনা? হায় ভগবান, তুমি একটু মুখ তুলে চাও ! আমার যাতে সহজে বিয়ে হয়।

মানুষের সংসারে যেমন কালাে মেয়েদের অনেকের সহজে বিয়ে হতে চায় না। | বিয়ের সময় আসে নানারকম বাঁধা, ঠিক তেমনটিই হ’লাে শাকচুন্নীর জীবনে।

| শাকচুন্নী খুব সুন্দর করে সেজগুজে, অনেক গয়নাগাটি সারা অঙ্গে চড়িয়ে ইচ্ছা করলাে একের পর এক ভূতেদের কাছে যাবে। যদি কোন ভূত দয়া করে ভালবেসে তাকে . বিয়ে করে, তবে তার জীবনটা ধন্য হয়ে যাবে।

'' এইরকম নানা কথা চিন্তা করে শাকচুন্নী প্রথমে গেল মামদো ভূতের কাছে। মামদো ভূত থাকে একটা বাঁশ গাছের ঝাড়ে। বাঁশগাছে বসে মামদো ভূত পা নাচাচ্ছে, | আর একটা কলা খাচ্ছে। শাকচুন্নী তাকে দেখতে পেয়ে একটু লজ্জা লজ্জাভাবে মুখটা

করে বললাে, মাম

অললাে, মামদো তােমাকে আমার বড্ড ভাল লাগে, তুমি কেমন সুন্দর দেখতে।

-মামদো ভূত শুনে বললাে, এমন করে তাে তুই কখনাে কথা বলিসনি, আজ কি মনে করে বলছি রে শাক-চুন্নী?

– তুমি যদি আমায় বিয়ে করাে, তাহলে আমার আইবুড়াে নামটা ঘুচে যায়। রায় বিয়ে করাে না গাে মামদো 'দা, আমার জীবনটা তাহলে এভাবে আর নষ্ট হয়ে যায়

হঠাৎ কি মনে ক

| আমী

– সে কিরে? কি কথা বলছিস? আমি তােকে নিজের বােনের মতাে ভাব। কনা শেষকালে আমাকে বিয়ে করতে চাইছিস। অন্যান্য ভূতরা শুনলে ছিঃ ২ করবে। এমন কথা আর বলবি না কোনদিন। যা বলবার বলেছিস। আর কখনাে এরকম কথা বলবি না। . – শাকচুন্নী শুনে বললাে, তাহলে তুই আমার জন্য একটা ছেলে দেখে দে! | আমি বিয়ে করে একটু শান্তি পাই।।

–আমি সেরকম ভূত-ছেলের সন্ধান জানি না। তুই চেষ্টা করে দেখ। অসুবিধা হলে তখন না হয় দেখবাে।

শাকচুন্নী বুঝে দেখলাে, ‘এ’বিয়ে করার লােক ভূত নয়। বােন পাতিয়ে ভণ্ডামী করছেবরং আমগাছের গামদো ভূতের কাছে গিয়ে দেখি। সে হয়তাে রাজী হয়ে যাবে।

গামদো ভূত আমগাছে বসে পাকা আম খাচ্ছিল। শাকচুন্নী তাকে দূর থেকে দেখতে পয়ে, এক ছুটে বিয়ে পাগলীর মতাে চলে এল।

গামদো ভূত দেখতে পেয়ে বললাে, ও’শাক-চুন্নী তুমি এমন করে ছুটে এখানে | এলে কেন? তােমাকে কেউ কি তাড়া করেছে?

. শাঁকচুন্নী শুনে বললাে, না তেমন কিছুনয়! তােমার কাছে একটা বিশেষ দরকারে | এসেছি। যদি তুমি কথা রাখাে, তাহলে কথাটা মুখ ফুটে খুলে বলি।

| গামদো ভূত শুনে বললাে, এসেছােই যখন বলে ফেললা, লজ্জা করে কোন লাভ নেই। আমার সময় কিন্তু হাতে খুব কম।

বলেছিলাম কি? তােমাকে আমার ভীষণ পছন্দ। জানি না তােমার আমাকে ...পছন্দ হয় কিনা? যদি পছন্দ হয় আমাকে তাহলে বলাে, তুমি আমাকে বিয়ে করবে?

| গামদো শাকচুন্নীর কথা শুনে ভীষণ চটে গিয়ে বললাে, তােকে আমার পছন্দ একথা কে বলেছে তােকে? যে বলেছে সে একটা রাখাল। তার রুচি বােধ বলে কিছু নেই। থাকলে এমন কথা বলতাে না। শাক-চনীশুনে বললাে,নাগাে আমায় কেউ বলেনি। আমার বড় সাধ হয় তােমায়

বয়ে করে একটু সুখে মানুষের মতাে ঘর-সংসার করি। গাছের ডালে থেকে থেকে এ একা আর ভাল লাগে না। তুমিও তাে তাই। সময়ে খেতে পাও না। বৌ থাকলে সে সুবিধাটা অতি সহজেই পেয়ে যাবে। আমি তােমাকে সময়ে রান্না করে দেবাে। তুমি মনের সুখে খেয়ে, তুমি তােমার কাজে যাবে। গানের জলসায় গিয়ে গান গাইবে।দুজনের। পরম সুখে দিনগুলাে কেটে যাবে।

| গামদো শাকচুন্নীর কথা শুনতে শুনতে মনে মনে ভাবলল, কি কুৎসিত দেখতে এই শাকচুন্নীটা। একে নিয়ে আমি কি করে সংসার করবাে? লােক ভূতেরা দেখলে কি বলবে? শেষকালে গামদো ভূত একটা কুৎসিত শাকচুন্নীকে বিয়ে করলাে কিন্তু মুখে মুখে একথাটা কি করে বলি?তার চেয়ে বরং ঘুরিয়ে বলি অন্য কথা। হাজার সত্যি কথা হলেও মুখের উপর কাউকে কুৎসিত বলা মানেই তার মনে ব্যথা দেওয়া, তাই গামদো ভূত বললাে, পছন্দ নয় তা নয়। তবে আমি বিয়ে করতে সহজে পারবাে না। | পছন্দ নয় তা নয় শুনে শাকচুন্নীর মনটা বেশ খুশী হয়ে উঠলাে। সে মনে মনে ভাবলাে, গামদো তাকে খুব পছন্দ করেছে। লজ্জায় শুধু বলতে পারছে না, তাই সে । গামদোর হাতটা সপাৎ করে ধরে নিয়ে বললাে, গামদো 'তুমি লজ্জা করাে না, আমার তােমাকে খুব পছন্দ, বহুদিন ধরে লুকিয়ে লুকিয়ে তােমায় দেখে যাই। তুমি রাজী হয়ে যাও সােনা।

, গামদোশাকচুন্নী পাছে ব্যথা পায় মনে তাই বুদ্ধি খাটিয়ে বললাে, আমি যে বিয়ে করে ফেলেছি। তুমি আমাকে এত পছন্দ করাে জানতাম না,জানলে তখন নাহয় ভাবতাম। এখন কোন উপায় নেই। গুয়ে পেত্নী আমার বৌ। জানতে পারলে আমায় বঁটি কোপা করে টুকরাে টুকরাে করে ফেলবে। | শাকচুন্নী গামদোর বিয়ে হয়ে গিয়েছে শুনে হতাশ হয়ে পড়ে বললাে, তুমি । | জানতে না আমি তােমায় কত ভালবাসতাম।

গামদো ভূত শুনে বললাে, আরাে অনেক ভূত আছে, যাও না ঐ বেহালা বাদক জামগাছের ভূতের কাছে। যে তােমাকে দেখলে পছন্দ করতেও তাে পারে। ও শিল্পী ভূত, রসিক সুজন ব্যক্তি।ওর পরাণটায় দয়া মায়া আছে। তােমাকে দেখে হয়তাে পছন্দ করে ফেলতে পারে।

, শাকচুন্নী মনে মনে ভাবলাে, ‘এ’ আমাকে বিয়ে তাে করবে না। তাই বরং বেহালা বাদক জামগাছে ভূতের কাছেই গিয়ে দেখি।

| এইসবনানা কথা চিন্তা করে শাকচুন্নী জামগাছের ভূত বেহালা বাদকের কাছে এসে হাজির। জামগাছের ভূত তখন বেহালা রেখে দিয়ে একটা বাঁশের বাঁশী হাতে নিয়ে মনের আনন্দে মেঘমল্লার সুর বাজিয়ে চলেছে। সে সুর শুনে শাকচুন্নী উন্মাদ। এই

তার বিয়ে করতেই হবে। ছলে বলে কৌশলে, যে কোন উপায়ে হােক, তাই সে লর কণ্ঠ করে নাকি সুরে বললাে, “ও’ শিল্পীভূত, তােমার বাঁশীর সুর ভারী সুন্দর তাের মন মিষ্টি সুর আমি কখনও শুনিনি। তােমার বাঁশীর সুর শুনে আমি ঘরে থাকতে না পরে দৌড়ে ছুটে এলাম। এ সুর তুমি কোথায় শিখলে গা। | জামগাছের ভূত ভীষণ রসিক। সে শাকচুন্নীর কথা শুনে বুঝতে পারলে, ‘এ’ কোন একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে, তাই রসিকতা করে বললাে, তােমার বাবার কাছে আমি এ সুর শিখেছিলাম। | শাকচুন্নী শুনে বললাে, আমি জানতাম ‘এ’ সুর আমার বাবা ছাড়া আর কেউ জানতাে না। সত্যি আমার বাবা একজন ভীষণ উন্মাদ লােক ছিল। তােমাকে ভালই তালিম দিয়েছে। তা তুমি আমার বাবার তাহলে শিষ্য একজন! কি বলল।

– হ্যা শিষ্য তাে বটেই। তা তুমি এখন বলল তাে, তােমার আগমন কিসের কারণে? | শাকচুন্নী ভাল করে একটা টোক গিলে বললাে, তােমার বাঁশীর সুর শুনে আমি | এতই মুগ্ধ হয়েছি, যে তােমাকে ছাড়া আমি বুঝি আর বাঁচবাে না। তুমি আমাকে একটু

- | কৃপা করাে। --

জামগাছের ভূত বললাে, আমি তােমায় কৃপা করবাে না একথা কে বলেছে। হাজার হলেও তুমি আমার গুরু কন্যা!

| শাকচুন্নী খুব খুশী। জামগাছের ভূতের কাছাকাছিহ'য়ে গায়ে গা ঘেঁষয়ে বললাে, | ভূত আমার প্রিয়ভূত, তুমি যদি আমায় করে বিয়ে আমি আমার জীবনটাকে ধন্য মনে,

করি। তােমায় ফুলের মালা দিয়ে করি বরণ।। | জামগাছের ভূত শুনে বললাে, সে কিকথা? কেউ কি কখনাে গুরুকন্যাকে বিয়ে করে গুরুকে না জানিয়ে? গুরু অভিশাপ দেবেনা ? -

| শাকচুন্নী বললাে, সে ভয় তােমার কোন নাই! আমি আমার বাপকে ঠিক বুঝিয়ে নেবাে শুধু তুমি মত দিলেই আমার আর চিন্তার কোন কারণ থাকে না। দয়া করে তুমি মত দাও লক্ষ্মীটি। আমার দিকে একেবার তাকিয়ে দেখ সােনা।

জামগাছের ভূত মুচকি হেসে বললাে, প্রথমে ফিসফিস করে, এতাে দেখছি মস্ত বিয়ে পাগলী। একে কি করে ভাগাবে রে বাবা। আমি পট্টি দিয়ে বললাম, তােমার বাবার

কাছে শিখেছি। অমনি বিশ্বাস করে নিল।। | শাকচুন্নীজামগাছেরভূত কিছুবলছেনা দেখে বললাে, কিতুমি ফিসফিকরছাে? কিছুই তাে মুখ ফুটে বলছে না। তােমার আবার কি হলাে? শুনি। জামগাছেরভূত তখন মনে মনে একটা বুদ্ধি খাটিয়ে বললাে, ঠিক আমি তােমাকেই

বিয়ে করবাে, কিন্তু কয়েকটা আমার শর্ত আছে। | শাকচুন্নী লাফিয়ে উঠে বললাে, তােম

রাজি। তুমি শুধু বলল, তােমার শর্তগুলাে কি কি?

| শাকচুন্নীলাফিয়ে উঠে বললাে, তােমার যা যা শর্ত আছে, সব মেনে নিতে আs

| জামগাছের বেহালা বাদক ভূত বললাে, প্রথম শর্ত হলাে, তােমার ঐ যে ভোজ নাক আছে, ওটাকে অবশ্যই পাল্টাতে হবে, নচেৎ অন্যান্য ভূত শিল্পাদের কাছে আমি

লজ্জায় পড়ে যাবাে। | শাকচুন্নীতার নাকটায় ভাল করে হাত বুলিয়ে নিয়ে একবার বললাে ঠিক আছে,

এবার বলাে পরের শর্ত। |, জামগাছের বেহালা বাদক শিল্পীভূত বললাে, এর পরের শর্ত হলাে, তােমার ঐ | যে হাতীর দাঁতের মতাে যে দাঁতগুলাে বেরিয়ে আছে, ‘ও’ গুলােকেও বদলে ফেলতে

হবে। নচেৎ হাসির সময় তােমায় মােটেই ভাল লাগে না। কথা বলতে গেলেই কেমন | যেন লাগে! | শাকচুন্নী বললাে, ঠিক আছে, আর ?

জামগাছের ভূত বললাে, আর বিশেষ কিছুনয়! যদিও তােমার চোখ দুটো বেশ । ডাগর ডাগর! তবুও আমার ঠিক ঠিক ভাল লাগে না, ওটাও বদলে ফেলতে হবে। | শাকচুন্নী মনে মনে বললাে, ‘এ’ একেবারে মানুষের চেয়েও বড় শয়তান ভূত।। - আরে সবাই যদি ভালকে গ্রহণ করে, তবে মন্দকে গ্রহণ করবে কে?

. অন্ধকার না থাকলে আলাের কদর কে বা করবে? ঠিক আছেশয়তান। তােমার | ‘এ’ দিন থাকবে না। আমার বাবার শিষ্য। বাবার পায়ের নখের যােগ্য তুমি নও | হনুমান ভূত কোথাকার?

যাই হােক এইরকম নানা কথা মনে মনে বলে শাকচুন্নী বুঝলে, ‘এ’ভূতের সব। শর্ত মানা অসম্ভব। সুতরাং একে আর কিছু না বলে চুপি চুপি চলে যাই।।

এইভাবে শাকচুন্নী জামগাছের ভূতের কাছ থেকে ফিরে মনে মনে ঠিক করলাে, আর ভূতেদের কাছেনয়। ঐ বকুল গাছের ব্রহ্মদৈত্যের কাছে যাবাে। দেখবাে ওর হৃদয়টা কেমন? ‘ও’অসুন্দরদের কি ভাল চোখে দেখে না ঘৃণা করে?

| এইরকম সাত পাঁচ কথা ভেবে শাঁকচুন্নী বকুল গাছের তলায় গিয়েচারিদিকে তাকিয়ে ব্রহ্মদৈত্যকে ডাকাডাকি করতে শুরু করলাে। | ব্রহ্মদৈত্য তখন নিশ্চিন্তে পরম সুখে ঘুমােচ্ছিল। অসময়ে তাকে ডাকাডাকি করায়, তার গেল আরামের ঘুম ভেঙে। ফলে সে ভয়ানক রেগে গিয়ে বলে উঠলাে, কে রে। তুই? এমন অসময়ে কেন আমার ঘুম ভাঙালি? একে আমার শরীর ভয়ানক খারাপ, তার : উপর বিরক্ত করা।

শাকচুন্নী আদর করা সুরে মিষ্টি করে বললাে, আমি শাকচুন্নী গাে৷ তােমার কাছে বিশেষ দরকারে একবার এলাম।

ব্রহ্মদৈত্য গম্ভীর হয়ে গলাটা চড়া সুরে বললাে, কি দরকার?চটপট বলে ফেল। আমার আদৌ এখন ভাল লাগছেনা। ভীষণ ঘুম পাচ্ছে। | শাকচুন্নী বললাে, বড় আশা নিয়ে আমি তােমার কাছে এসেছি। যদি তুমি রাগ না করাে তাহলে বলি। কথা দাও তুমি রাগ করবেনা তাে। তাহলে আমার একটা প্রস্তাব আছে বলি। | ব্রহ্মদৈত্য বললাে, চটপট বলে ফেললা - তােমার কি প্রস্তাব? আমার শরীর ভাল নয়। ভীষণ বিরক্ত বােধ হচ্ছে। | শাকচুন্নী একগাল দাঁত বার করিয়ে হাসতে হাসতে বললাে, ব্রহ্মদত্যি ঠাকুর। তুমি আমায় বিয়ে করবে? আমার খুব বিয়ে করে সংসার করতে ইচ্ছা করছে। * শাকচুন্নীর এইরকম হঠাৎ কথা শুনে ধড়ফড় করে উঠে পড়েব্ৰহ্মদত্যি বললাে, তাের তাে দেখছি সাহস মন্দ নয় ; আমি একজন ব্রাহ্মণ ব্রহ্মদত্যি। তুই আমাকে বিয়ে করতে চাস। তাের এত বড় সাহস।নীচ জাতের শাঁকচুন্নী কোথাকার? আজদাঁড়া তাের মাথা ফাটিয়ে দিয়ে তবে তােক ছাড়বাে।

| শাকচুন্নীনীচ জাতের ভূত বলায় রেগে গিয়ে বললাে, যখন নীচ জাতের ভূতেরা জাল দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে এসে বাজারে বিক্রয় করে সেটা কিনে খেতে লজ্জা করে না। - যখন ফল, ধান, নানা ধরনের খাবার উৎপন্ন করে বেচে তখন কিনে খেতে লজ্জা করে

। তখন কি একবারও মনে হয়না,এটা নীচ জাতের ভূতেদের উৎপাদন, খেলেনীচজাত | হয়ে যেতে হবে? ঐ যে বড় রাস্তাটা মাটি দিয়ে তৈরী, ওটা কারা বানিয়েছে? ওর উপর দিয়ে হাঁটার সময় কি একবারও মনে হয় না, ওটা নীচজাতির লােকেরা বানিয়েছে? ওটার উপর দিয়ে হাঁটলে নীচ জাতি হয়ে যেতে হবে! এইরূপ মানসিকতা নিয়ে এখানে বাস করাে। তােমার মতাে ব্রহ্মদৈত্যকে বিয়ে করলে আমায় অনেক দুর্গতি ভােগ করতে হবে। আমি শাকচুন্নী, দেখতে অসুন্দর হলেও, তােমায় আমি জোর গলায় বলছি, তুমি আমার অনুপযুক্ত, তােমার কাছে আমার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা অন্যায় হয়েছে। এটা তুমি বলতে পারাে।

ব্রহ্মদৈত্য তখন রেগে গিয়ে বললাে, আমি তােমার কাছে যাইনি বিয়ের প্রস্তাব, নিয়ে, তুমিই এসেছে। সুতরাং এত কথার বলার প্রয়ােজন নেই। এখান থেকে ভালােয় ভালােয় কেটে পড়াে।নচেৎ ভীষণ অপমান করবাে।

শাঁকচুন্নী খুব মন খারাপ করে ব্রহ্মদত্যির কাছ থেকে ফিরে বাঁশগাছে বসে অনেকক্ষণ চিন্তা করলাে। অবশেষে সে চিন্তা করে দেখলাে, সে যদি বিয়ে করে তবে

একটা মানুষকেই সে বিয়ে করবে। আর ভূত প্রেত কিংবা কোন অমাত্য বা রাজ

ভত-প্রেত-ব্ৰহ্মদত্যি। ভাবা যা করা মহারাজকে বিয়ে করবে না। ওরা সব নীচ মনের ? ” তাই। মানুষের সন্ধানে সে সময় নষ্ট করবে, অকারণ কোন আলেয়ার পিছনে ঘুরে আষ সময় নষ্ট করবে না।

• এরপর প্রতিদিন ভাল করে সেজেগুজে ডায়মণ্ড হারবারের নদীর ধারে একটা বেঞ্চে গিয়ে বসে থাকতে শুরু করলাে।

শাকচুন্নীকে নদীর ধারে ঐরূপ প্রতিদিন সন্ধ্যায় বসে থাকতে দেখে লােকজন অনেক হাসাহাসি করতাে। কেউ কেউ বিদ্রুপ করে বলতাে ঐ দেখ মেয়েটা প্রতিদিন কেমন সেজেগুজে এখানে বসে থাকে, আর ছেলেদের দিকে কেমন বিশ্রীভাবে তাকিয়ে থাকে।

• শাকচুন্নী দেখতাে সব মানুষজন তাকে দেখে নাক সিটকে এড়িয়ে চলে যায়। মনটা দুঃখে ক্ষোভে রাগে নিজের কুৎসিত শুরীরটার প্রতি কেমন যেন ঘেন্না লাগে। আবার অনেক সময় মনে হয়, এইসব লােকগুলাের মাথা যেন চিবিয়ে খায়, কিন্তু তা করতে গেলে তাে বিয়ে হবে না। তাই সে নীরবে অনেকের ঘৃণিত চোখের দৃষ্টি সহ্য করে নেয়। আশায় থাকে মানুষের মত একজন মানুষ নিশ্চয়ই সে বর হিসাবে পেয়ে যাবে। সবাই তাকে নিশ্চয়ই পায়ে ঠেলে দিয়ে যাবে না। সত্যিই একদিন তার কপালে একটা মানুষের মতাে মানুষ জুটে গেল। | একদিন ধনঞ্জয় রানা নামে একটা ছেলে, একটা ভিক্ষুককে আট আনা পয়সা দিয়ে। - বললাে, ভাই আমার কাছে আর বিশেষ পয়সা নেই। ঐ পয়সাটা ছিল আমার টিফিন খাবারের পয়সা। তােমার যখন আজ কিছু খাওয়া হয়নি, তখন এই পয়সাটা দিয়ে তুমি যা পারাে কিনে খাও। যদিও আট আনা পয়সার আজকের দিনে কোন দাম নেই, ‘ও’ দিয়ে কিছুই হয় না, সুও...... । | শাকচুন্নী দূর থেকে বসে ‘এ’ দৃশ্য দেখলাে এবং ধনঞ্জয়ের সব কথা শুনলাে।

শাকচুন্নীমনেমনে ভাবলাে এই লােকটার মনে দয়া মায়া সব কিছুই আছে।‘এ’ আমাকেও | দয়া করে গ্রহণ করলেও করতে পারে। মনে হচ্ছে‘এ’ প্রকৃত মানুষের মতাে মানুষ।

এই ভাবনা-চিন্তা করে শাকচুন্নী যেখানে বসে ছিল, সেখান থেকে উঠে গিয়ে ভিক্ষুককে বললাে, তােমার আজকে কিছু খাওয়া হয়নি। এই নাও আমি তােমাকে দুটো টাকা দিচ্ছি। যাই হােক কিনে খেয়ে নিও।

শাঁকচুন্নী মনে করলে আরাে বেশী টাকা বা পয়সা দিতে পারতাে কিন্তু ধনঞ্জয়। | রানা পাছে কিছু ভাবে। এইসব নানা কথা ভেবে সে এই অল্প পয়সা বা টাকা দিয়েছে। | এরপর ধনঞ্জয়ের দিকে তাকিয়ে বললাে, আপনার কাছেটিফিন খাবারের পয়সা

তাহােঐ ভিক্ষুকটাকেদিয়ে দিয়েছেন।আসুন আমরা দুজনে একটা দোকানে গিয়ে কিছু টিফিন করে নিই।

ধনঞ্জয় শাকচুন্নীর এই কথাটা শুনে ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেল।নানান আপনি কেন আমায় টিনি খাওয়াবেন!আপনাকে চিনি না, জানিনা তাছাড়া -1 | শাকচুন্নী বললাে, তাছাড়া কি বললেন না তাে ঠিক আছে আমি বলছি অচেনাকে চেনা করে নিতে হয়। পৃথিবীতে সবাই অচেনা,জন্ম আর চেনা থাকে বলুন। চলুন! চলুন। ' এই বলেশাকসুন্নী ধনঞ্জয়ের হাত ধরে একটা রেস্টুরেন্টেনিয়ে গিয়ে, দোকানের | কর্মচারীকে বললাে, দুটো করে চারটে ভেজিটেবল চপ, আর দুই জায়গায় দুটো | মােগলাই পরটা দিয়ে যান তাে।

, দোকানের কর্মচারী অর্ডার দেওয়ার সাথে সাথে একটা টেবিলে শাকচুন্নীর | অর্ডার মতাে খাবার দিয়ে গেল।

| ধনঞ্জয়ের ভীষণ খিদেও পেয়েছিল। মনে মনে ভাবলাে ---- ভগবান যা করে মঙ্গলের জন্য। ভালই হয়েছে এনার সঙ্গে দেখা হয়ে খিদের মুখে পেটটা তাে ভরলাে।ভাল বলতে হয়, অচেনা ভদ্রমহিলা আমাকে তাে খাওয়ালাে। এইসবনানা কথা মনে মনে ভেবে সে কি বলবে না বলবে ভেবে, খুঁজে না পেয়ে বললাে, আপনার বাড়ী কোথায়?

শাকচুন্নী বললাে, আমার বাড়ী জিয়ঞ্চেয়। এখানে বেড়াতে এসেছিলাম। | এক ভিক্ষুকের সাথে আপনার এমন সুন্দর ব্যবহার দেখে আপনার সাথে আলাপ | করার ইচ্ছে হল।

ধনঞ্জয় শুনে বললাে, আপনার নাম কি?

শাকচুন্নী অনেকক্ষণ ভাবলাে। ভাবলাে বিয়ের কথাটা সে এখনি বলবে, পরে বলবে। না, ভাল করে আগে পরিচয়টা হয়ে যা দরকার নেই, তাই সে বুদ্ধি খাটিয়ে গুছিয়ে কায়দা করে বললাে, আমি দেখতে খুব একটা সুন্দর নয়, কিন্তু মা বাবার চোখে তার সন্তান যথেষ্ট সুন্দর, যেমন পেঁচার সন্তান, আদৌ সুন্দরনয়, কিন্তু পেঁচা বা পেঁচীর কাছে তার সন্তান সুন্দর, তেমনি আমি আমার বাবা মার চোখে অসুন্দরী হয়েও সুন্দরী ছিলাম। বাবা মা আদর করে নাম রেখেছে সুন্দরী শাকচুন্নী। | ধনঞ্জয় কখনাে শােনেনি শাকচুন্নী কারাের হয় গদবী।তাই সে একটু অবাক হয়ে গেল। মনে এনে ভাবলাে, যদি ‘এ’ নিয়ে কিছু বলি, তাহলেও মনে ব্যথা পেতে পারে। নিজেই বলছে আ. অসুন্দরী, তাই সেকথা ঘুরিয়ে অতি সুন্দর করে বললাে,

পৃথিবীতে দেখুন সবাই তাে সন্দৰ-সন্দরী হয়ে জন্মায় না। ভগবান যাকে যেভাবে গড়েছেন, তার গড়ন সেইরূপ।‘ও’ নিয়ে দুঃখ করেন ।

শাকচুন্নী ধনঞ্জয়ের এই কথা শুনে বুঝলাে এই সুযােগ, ‘এ’সুযােগ ছাড়লে সহজে আর হয়তাে বলা যাবে না। তাই সে বললাে, জানেন আমি কালাে দেখতে কুৎসিত বলে, কেউ আমায় বিয়ে করতে চায় না। | ধনঞ্জয় বললাে, সেকিঃ কিবলছেন? আপনার ব্যবহার দেখে তাে আমার মনে হচ্ছে আপনার মতাে সুন্দরী পৃথিবীতে আমি এই প্রথম দেখলাম। এত সুন্দরী আমি আগে কখনাে দেখিনি। শুধু সুন্দর দেখতে হলে কেউ সুন্দর বা সুন্দরী হয় না, যদিতার মনটা না হয় সুন্দর।

শাঁকচুন্নীতখন আবেগে উত্যুকূল্প হয়ে বললাে, আপনি আমায় বিয়ে করবেন? ধনঞ্জয় বললাে, কি বলছে?

শাকচুন্নী বললাে, দেখলেন তাে সবাই বড় বড় কথা বলতে পারে, ভাল জ্ঞান দিতে পারে কিন্তু বিয়ে করার কথা বললে সাত পা পিছিয়ে যায়। | ধনঞ্জয় শাকচুন্নীর কথাটা শুনে ভীষণভাবে মনটা খারাপ করে বললাে, আমি যে গরীব এবং আজোও আমি বেকার। এখনও কোন কাজকর্ম পাইনি।

শাকচুন্নী বললাে, “ও’ সংসার চালাবে কি করে? এই কথা বলছে, ঠিক আছে ‘ও’ আমি চালিয়ে নেবাে। তােমায় কোন কিছু ভাবতে হবে না। তুমি শুধু আমায় বিয়ে করবে বলাে, তােমার জীবনটা আমি বদলে দেবাে।

ধনঞ্জয় আপনি বলতে বলতে শাকচুন্নীর তুমি করে ভাবায় বিগলিত হয়ে গিয়ে বললাে, ঠিক আছে আমি আপনাকে বিয়ে করতে রাজি। আপনি খুশি তত।। | শাকচুন্নী তিড়িংকরে নেচে উঠে বললাে, খুশী মানে ‘এ’খুশীর সীমা নেই। আজ আমি একজন মহান ব্যক্তির দর্শন পেয়েছি। বলাে সবাই যদি সুন্দরীকে বিয়ে করবে, তবে অসুন্দরীদের কারা বিয়ে করবে? এই বলে শাকচুন্নী ধনঞ্জয়ের দুই পায়ে প্রণাম করে বললাে - প্রিয়, তুমি আমায় আর আপনি আপনি করাে না। আমায় তুমি তুমি করে ডাকো। এরপর একদিন শুভদিন দেখে শাকচুন্নী আর ধনঞ্জয়ের বিয়ের দিন ঠিক হলাে।

| শাকচুন্নী রাতারাতি একটা বিরাট বাড়ী বানালাে জিয়ঞ্চে। নিমন্ত্রণ করলাে সেইসব ভূত-প্রেত ব্ৰহ্মদত্যিদের। যারা তাকে একদিন বিয়েকরতে চায়নি তাদেরকেও।

| বিয়ের দিন লােকে লােকারণ্য। সারা বিয়ে বাড়ী কি হৈ হুল্লোড়। মানুষ থেকে শুরু করে ভূত-প্রেত-ব্ৰহ্মদত্যি সবাই এসেছে শাকচুন্নীর বিয়েতে। সানাই

বাজছে করুণ সুরে। রান্না ঘরে রাধাবল্লভী থেকে শুরু করে চিংড়ির মালাইকারী : পর্যন্ত অর্থাৎ যত রকমের ভাল মন্দ খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। | একে একে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি থেকে শুরু করে ভূত-প্রেত-পেত্নী | ব্রহ্মদৈত্য সকলের খাওয়া হয়ে যাবার পর শাকচুন্নী আর ধনঞ্জয়ের বিয়ে হয়ে গেল।

. সমস্ত পেত্নী শাকচুন্নীর মনে মনে প্রচণ্ড ঈর্ষা হল। তারা মনে মনে ভাবলাে, শাঁকচুন্নী এত সুন্দর বর কি করে জোগাড় করলাে? বরের কি রূপ ? ‘এ’ রূপ দেখে কেনা মুগ্ধ হয়? | শাকচুন্নী সকলের চোখের চাউনি ও আচার আচরণ দেখে বুঝতে পারলাে, সবাই কি জানতে চায়? তাই সে মুখের অবগুণ্ঠন খুলে সবাইকে ডেকে বললাে, জানেন কেউ আমায় বিয়ে করতে চায়নি। আমি অসুন্দর বলে অন্য জাতের লােক ভূত প্রেত তাে দূরের কথা নিজের জাতের বহুজন আমায় দেখে ঘৃণায় মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এই ধনঞ্জয় আমাকে মহানন্দে বিয়ে করেছে।‘ও’অন্যের চোখে যাই হােক, আমার চোখে বিশাল। এর পায়ে আমার শত কোটি প্রণাম। | বিয়ে শেষ হয়ে গেলে সবাই যে যার একে একে নিজ বাড়ীতে বা আশ্রয়ে ... ফিরে গেল। শাঁকচুন্নী আর ধনঞ্জয় পরম সুখে জিয়ঞ্চে বসবাস করতে লাগলাে। শাকচুন্নীর মনে আর কোন ব্যথা নেই। যেন বহু দুঃখের অপার নদী পার হয়ে পেয়েছে আজ সে অঢেল সুখ।।


Author : তারা কুমার ভট্টাচার্য্য
Date : 2019-07-14 06:26:07

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-:Advertisement:-