-: advertisement :-

ভূতের রাজা ব্রহ্মদৈত্য


ফাল্গুন মাস। চারিদিকে শুধু বিয়ে আর বিয়ে। ছেলে বুড়াে আই বুড়াে সকলে . বিয়ে হয়ে যাচ্ছেকিন্তু চপলা সুন্দরীর বিয়ের ফুল ফুটছেনা। মনের দুঃখে বকুল গাহে

করে। আর পা দুটো নিয়ে গাছের ডালে দোলায়। এই চপলা সুন্দরী অন্য কোন মানুষের ঘরের নারীনয়।‘এ’ একটা বিরাট ধরনের শাকচুন্নী। - এই শাকচুন্নীর বকুল গাছটার প্রতি একটা ব্ৰহ্মদত্যির নজর ছিল। তার অনেক সময় ইচ্ছা হয় বকুল গাছে গিয়ে থাকতে, জামগাছেআর থাকতে ভাল লাগেনা।বকুল গাছটা থাকলে বকুল ফুলের গন্ধটাও লাগবে মােটামুটি মন্দ নয়, তাছাড়া বকুল ফুলের মালা গেঁথে গলায় পরে বেশ একটা রাজুরুষের মতই হােক, জামাই জামাই ভাবেরই হােক, ভাল তাে লাগবে। এই রকম নানা কথা ভাবতে ভাবতে একদিন সত্যি সত্তি ব্ৰহ্মদত্যি বকুল গাছটা দখল করতে এল। | শাকচুন্নী গাছ থেকে তাকে দেখতে পেয়ে বললাে, ভালােয় ভালােয় এখান থেকে চলে যাও নচেৎ নখ দিয়ে তােমায় আমি চিরে ফেলবাে। এটা আমার আস্তানা। এটা দখল করতে এসেছাে, এটা আমি ছাড়বাে নি। * ব্রহ্মদত্যি বললাে, ছাড়বি নি মানে তাের বাপ ছাড়বে। এটা ভগবানের সৃষ্টি গাছ।

জানিস। এতে সবার সমান অধিকার। | শাঁকচুন্নী রেগে গিয়ে বললাে, আমি একাধারে একটা গাছের ডালে থাকবাে,

তাও তােমার সহ্য হয় না। কেন রে, ওলাউঠা, মিসে কোথাকার? বাপ তুলে কথা

বলিস। তাের মুখে নুলাে জ্বেলে দেবাে জানিস? আমি যাই তাই শাকচুন্নী নয়, অs হলাম.চপলা সুন্দরী।

| ব্ৰহ্মদত্যি শাকচুন্নীর কোন কথার গুরুত্ব না দিয়ে বললাে, আমি এসেছি। আমি এই গাছেই থাকবাে, তাের যদিকিছু করার থাকে করবি। বেশী বাড়াবাড়ি করলে একেবারে তুলে আছাড় দিয়ে মেরে ফেলবাে। আমাকে চিনিস্?আমিহলুম কালুয়া ডাকাত ব্ৰহ্মদত্যি।

| শাকচুন্নীটা একেই ছিল ভীষণ বদরাগী তারউপর খুবই ঝগড়াটে। সেব্রহ্মদত্যির কথা শুনে, তেলে বেগুনে জ্বলে গেল। মাথার ঘি তার রাগে তখন টবগ করে ফুটছে। সে তখন বললাে, আমি চুপ করবাে কেনরে মিসে? তুই একটা ব্যাটা ছেলে।ব্রম্ভদত্যি হয়ে, একটা অবলা মেয়ে ভূতের কাছে গায়ের জোর দেখাস্! দুনিয়ার সবাই দেখছি দুর্বলের কাছেই করে আস্ফালন। বাপের ব্যাটা যদি হও, যাওনা মরদের কাছে। হাত পা একদম ভেঙে না ফেলে যদিনা দেয় তবে আমার নাম শাঁকচুন্নী চপলা সুন্দরীনয়।দুটো কান পেটে তাের সামনে কাঁচা গুয়ে ফেলে দেবাে৷ এই বলে শাঁকচুন্নী কতকগুলাে মাছের টুকরাে হাতে নিয়ে ব্রহ্মদত্যির দিকে ছুঁড়ে দিল।

ব্ৰহ্মদত্যি ভীষণভাবে রেগে গেল। এতই রেগে গেল যে, রাগে গজগজ করতে করতে যে ডালে শাকচুন্নী বসেছিল, সেই ডালটা একটানে ভেঙে ফেলে শাঁকচুন্নীকে সমেত ডালটা অনেক দূরে ছুঁড়ে ফেলে দিল।শাকচুন্নীর সারা শরীরে খুব জোর আঘাত লাগলাে। আঘাতে সে খুব জোরে চিৎকার করলাে কিন্তু কোন ভূত-পেত্নী এলাে নানা আসার কারণ কি শাকচুন্নী কিছুতেই ভেবে পেল না? | এরপর সে আরাে আরাে জোরে চিৎকার করলাে। তখন বাঁশবাগানের পেত্নী, তেঁতুলগাছের শাকচুন্নীর, নিমগাছের শাকচুন্নী, জামগাছের শাঁকচুন্নী সব একজায়গায় হ’য়ে,বকুলগাছের পেত্নীকে বললাে, বসে বসে কাঁদলে তাে চলবেনা, এর একটা যাইহােক বিহিত করতেই হবে।

এইকথা শুনে বকুল গাছে শাকচুন্নী বললাে, আমি যা বিপদে পড়েছি, এরকম বিপদে যেন আমার যে মহাশত্রু সেও না পড়ে। আমি বকুল গাছটায় আস্তানা করেছিলাম। সেখান থেকে আমায় কেমন অত্যাচার করে একটা ব্ৰহ্মদত্যি তাড়িয়ে দিয়েছে? তােরা। দেখ, আমার আশ্রয় আমার নয়। জোর যার মুলুক তার।

অন্যান্য শাকচুন্নীরা তখন বললাে, দেখি দেখি কোথায় কোথায় লেগেছে তাের। | শাকচুন্নী তখন তার শরীরটা দেখিয়ে বললাে, এই দেখ আমার নাকটা একে ভোতা,তার উপর আঘাত লেগে আরাে থেঁতাে হয়ে গিয়েছে। পিঠে কি জোর লেগেছে। ব্যথায় সারা গা হাত পা যন্ত্রণায় কেমন কেমন হচ্ছে।

তখন সব শাকচুন্নী এক হয়ে বললে, ‘এ’ জুলুম নীরবে সহ্য করলে, ও তাে।

আজ একে তাড়িয়েছে, কাল আমাদেরও তাড়িয়ে দিতে পারে। চল আমরা সবাই মিলে জোট বেঁধে ওকে গিয়ে তাড়াই।

এই বলে সমস্ত শাকচুন্নীরা যে যেখায় ছিল সব এক এক করে এল। সবাই মিলে একটা বিরাট মিছিল করে সেই বকুল গাছের তলায় হাজির হয়ে বললাে, আরে আরে জুলমবাজ ব্ৰহ্মদত্যি দূর হঠো। জুলুমবাজি তােরনীরবে সইছিনা, সইব না, ইত্যাদি ইত্যাদি। এইরকম কত কি কথা বলে লাগাতার চিৎকার করে যেতে থাকলাে?

. ব্রহ্মদত্যি এসব কথায় গুরুত্ব না দিয়ে, দিব্যি বকুল গাছের ডালে পা ঝুলিয়ে | আপন মনে বসে রইলাে, আর একগালে পান নিয়ে চিবাতে শুরু করলাে।

| এইরূপ অগ্রাহ্য করায় শাকচুন্নীরা আরও রেগে গিয়ে ধৈর্য না ধরতে পেরে, তারা প্রত্যেকে ঢিল, পাথর যে যা হাতের কাছে পেল তাই নিয়ে ব্রহ্মদত্যির দিকে ছুঁড়তে লাগলাে। | ব্ৰহ্মদত্যি এতক্ষণ একদম চুপ ছিল, কিন্তু যেই একটা ঢিল গিয়ে তার গায়ে লাগলাে, সে তখন ভীষণ রেগে গিয়ে বকুল গাছের ডাল থেকে লাফ মেরে মাটিতে নামল। তারপর একটা বিরাট হুঙ্কার দিয়ে বললাে, হারে-রে-রে-শাঁকচুন্নীর দল তােদের এত সাহস। একে সব মেয়ে ভূত তার উপরে এত তেজ। তােদের আজ প্রত্যেককে ধরে এক একটাকে সাবাড় করে ছাড়বাে।

| হাজার হলেও সব মেয়ে ভূত। একটা পুরুষ ব্ৰহ্মদত্যির সাথে পারে কি? তাই তারা সব ভীষণ ভয় পেয়ে সেখান থেকে তখনকার মতাে ছুট দিয়ে পালালাে।।

| শাকচুন্নীরা এরপর মােহনপুরে মহরম খেলার মাঠে একজায়গায় জমায়েত হল। তারা প্রত্যেকে প্রত্যেকের সাথে নানা আলােচনা করে অবশেষে সিদ্ধান্ত করলাে, ভূতেদের পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে যাবে।‘এ’অন্যায় তারা আর নীরবে সহ্য করবে না। কারণ অন্যায় যে করে সে যেমন অপরাধী, তেমন অন্যায় যে নীরবে সহ্য করে সেও সেই একই রকম অপরাধী। তাছাড়া শাকচুন্নীদের তাে মান সম্মান বলে কিছু আছে তাে।

| সবাই তাই একমত হয়ে একটা জানিয়ে নদী থেকে বেশ পরিমাণে মাছ ধরলাে। সেই মাছ একজন শাকচুন্নী আঁকায় করে নিয়ে মাথায় তুলে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে হাজির হলাে। পঞ্চায়েতের প্রধান গামদো ভূত একটু ঘুষ খাের।শাকচুন্নীদের কাছ থেকে ঝকা সমেত মাছের উপঢৌকন পেয়ে অত্যন্ত খুশী হলাে। খুশী এতই হল যে, বাড়ীতে তার গেলে কেউ কাউকে যে কােনদিন সহজে বসার আসন পর্যন্ত দেয়নি, সে আজ শাকচুন্নীদের আজ মনের আনন্দে বাড়ীর বারান্দায় বসতে বললাে।

| শাকচুন্নীরা সবাই তাই তার বারান্দায় বেশ সারি দিয়ে বসে পড়লাে। কেউ উবু হয়ে, কেউ বা খেলিয়ে, কেউ বা হাঁটু গেড়ে।

গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গামদো ভূত মনে মনে ভাবলাে পরের নির্বাচনে এস ভােটটা যাতে আমার পকেট ভােট হয়, সে ধান্দাটা ঠিক রাখতে হবে। তবে বকুল গাছে শাকচুন্নীটাও এসেছে। ওকে সেবারে সরকারী টাকা ধার দেওয়ার সময় অর্ধেক টাকা গামদো ভূত ঘুষ হিসাবে নিয়ে নেওয়ায় প্রচার করে একটু নিন্দা মন্দা করেছে। আজ যখন আমার কাছে এসেছে, তখন সে কথাটা মনে রেখে কাজ নেই তাতে ক্ষতি হতে পারে।

এইসব নানা কথা ভেবে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বললাে, তােমরা এখন বলাে কি উদ্দেশ্যে এখানে তােমরা এসেছাে? বকুল গাছের শাক-চুন্নী ডাক ছেড়ে বেশ কিছুক্ষণ কেঁদে নিয়ে বললাে, প্রধান মহাশয়'আমি এখন কোথায় যাই বলুন তাে। কোথা থেকে উটকো একটা ব্রহ্মদত্যি এসে আমার আস্তানাটা কেড়ে নিয়ে দখল করে জেঁকে বসেছে। আমি একে মেয়ে ভূত! তার উপর ভয়ানক একা।

অন্যান্য শাক-চুন্নীরা হেঁকে বললাে, এটা কি মগের মুল্লুক? আপনি থাকতে আমাদের এই গ্রামটা এত তাড়াতাড়ি উচ্ছন্নে যাবে। আমাদের বিশ্বাস আপনি এর একটা বিহিত করবেন!

গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ভান করে ভীষণ রেগে গিয়ে বললাে, এত বড় সাহস? সে কি ভূতাে গামদো সর্দারের নাম কখনও শােনেনি। ওর আমি কি করি দেখাে? আঁ আমার নাম শুনে বনের বাঘ পর্যন্ত ভয় পায়। ও’ভয় পাবে না, ওর বাপ ভয় পাবে। ব্যাটার গর্দানটা আমি আজ হাত দিয়েই কেটে ফেলবাে। শেষ পর্যন্ত আমাকে চটানাে। ব্যাটা অঞ্চল প্রধানকেও ভয় পায় না।বীরত্ব! নিকুচি করেছে তাের বীরত্বে। যাচ্ছিদাঁড়া।

| এইসব নানা কথা বলে অঞ্চ ল প্রধান গামদো ঘরের মধ্যে ঢুকে গেল। খানিক বাদে আবার ফিরে এল। ভাল একটা পাঞ্জাবী আর একটা ইস্ত্রী করা পাজামা পরে।বললাে চলােগে সব দেখি। আজ রাত্রেই আমি যাই হােক একটা ফয়সালা করে ছাড়বাে। বেটা হারামজাদা ভেবেছে কি? চড় মেরে গাল ঘুরিয়ে দেবাে। জেল খাটিয়ে মেরে ফেলবাে।

শাঁকচুন্নীরা অঞ্চল প্রধানের পট্টি কথায় ভুলে গিয়ে মহাখুশী। গামদো ভূত যখন আজ তাদের পক্ষের তখন আর ভাবনা কি? ব্রহ্মদত্যির অবস্থা আজ কি হয় ? বকুল গাছ থেকে পালাবার পথ খুঁজে পাবে না।

শাক-চুন্নীরা মনের আনন্দে গামদোর পিছুপিছু এসে বকুল গাছেতলায় আনন্দে নাচতে শুরু করলাে। | ওমা একি কাণ্ড? গামদো ভূত যে আর মােটে এগােতে চাইছেনা। তার বুকের ভিতর হৃৎপিণ্ড আশি মাইল বেগে তিড়িং তিড়িং লাফাচ্ছে ভয়ে।

| শাকচুন্নীরা তখন বললাে, কি প্রধান মহাশয়, আপনি যাবেন না? এখানেই যে কাঠের পুতুলের মতাে থেমে গেলেন।

গামদো ভূতের ব্রহ্মদত্যির সামনাসামনি হতে মােটেই ইচ্ছা নেই। নিত্যন্ত শাকএরীদের চাপে পড়ে সে এখানে এসেছে। আবােল তাবােল কাণ্ড করে, শেষকালে কি মদ

বলদের মত অকালে প্রাণটা হারাবে? একেব্রহ্মদত্যির শরীর বিরাট! দূর থেকে দেখলে সুম পর্যন্ত ভয় পাবে। আর শক্তিতে সেপ্রচুর বলবান। তার সাথে সমস্ত ভূতেরা জোট বেধেলড়লেও কেউ পারবে না। সুতরাং ভেবে চিন্তে কাজ না করলে পরে ভয়ানকভাবে

পদে পড়তে হবে। সেদিক দিয়ে গামদো ভূত ভীষণ চালাক। গামদো তাই চালাকি করে। বললাে, এগােবাে না মানে, এগােচ্ছি এখুনি। শুধু একটুভাবতে দাও! কি করি ব্রহ্মদত্যির তােমরা দেখােনা! ও ব্যাটাকে কাদা গােবরে করে ফেলবাে। আমার হাতে পড়েছে, ওকি রেহাই পাবে ভেবােছাে ? | গামদো ভূত ভাল করেই জানে শাকচুন্নীদের দেওয়া ঘুষ মাছ, দিব্যি মাস্ত্রে ঝােল,ঝাল,টক করে আয়েস করে খেয়েছে, এখন যদিতাদের কাজঠিক মতাে করেনা

দেয় তাহলে তারা এখন ভীষণ গণ্ডগােল বাধাবে। তাতে পাঁচটা গ্রামের ভূত জেনে যাবে।' | দেশময় ছিঃ ছিঃ রব পড়ে যাবে। মান সম্মান বলে তাে কিছু গামদোর আছে। অনেক

অন্যায় সে গুপ্তভাবে করেছে, যে বর্গাদার নয় তাকে বর্গাদার বলে ভূতের বি,এল, আরের অফিসে চিরকূট লিখে, যার বিরাট অবস্থা তাকে বর্গাদার করে দিয়েছে। নিজের দলের ভূতেদের সরকারী লােন পাইয়ে দিয়ে, তার থেকে বেশ কিছু পেলা খেয়ে নিজের ভুঁড়িটা মােটামুটি বাড়িয়েছে। এসব কথা শাঁকচুন্নীদের দিয়ে প্রকাশ হয়ে গেলে মুখ দেখাবে কি করে? তাই নানারকম কথা ভেবে শাকচুন্নীদের সান্ত্বনা নিয়ে বললাে, তােমরা একটু দূরে গিয়ে দাঁড়াও! আমি আগে ব্রহ্মদত্যির সাথে দেখা করে আসি! দেখি বেটা কি বলে? | ব্ৰহ্মদত্যি দূর থেকে চিৎকার করে বললাে, এর রাতে এখানে কারা রে? আমার

ঘুমের ব্যাঘাত করতে এসেছিস। ভালােয় ভালােয় পালানচেৎ আমি কে জানিস তাে? উচিত শিক্ষা দিয়ে ছাড়বাে।।

| গামদোর তখন ভয়ে পাজামার ভিতর উরুত থরথর করে কাঁপছে। কিন্তু সাহস | না দেখাতে পারলে শাকচুন্নীরা তখন বিদ্রুপ করবে তাই সে সাহস করে ব্রহ্মদত্যির কাছে | এগিয়ে গেল। গামদোকে দেখে ব্ৰহ্মদত্যি একটা হাই ভেঙে বললাে, তুমি কে হেমশাই? এত রাতে বিরক্ত করতে এসেছাে ? গামদো সাহস করে বললাে, আমি এই অঞ্চলের প্রধান, আপনার সাথে একটু দেখা করতে এলাম।। | ব্ৰহ্মদত্যি তখন বললাে, তাহলে তােমার সাথে ওরা কারা এসেছে? ওরা এখানে - এসেছেই বা কেন?

| গামদো ভূত তােষামােদ করে বললাে, ওদের কথা বাদ দিন তাে, যত সব. পাগলীর দল আমাকে বিরক্ত করে মারছে। ওদের আমি দু'চোখে দেখতে পারি না। শুধু

আমার কাছে গিয়ে আপনার নামে যত রকমেরনালিশ আছে বলে নালিশ করে অবশেষে বিরক্ত হয়ে আপনার কাছে চলে এলাম। বলুন আপনি ভাল আছে তো | ব্ৰহ্মদত্যি গম্ভীর হয়ে বললাে, ভাল না থাকলে আপনি কি আমার দেখা পেতেন, যা বলুন তাে নালিশটা কি? | গামদো একটা ঢােক খেয়ে বললাে, আপনি না-কি বকুল গাছের শাক-চুৰ্গীর আস্তানাটা কেড়ে নিয়েছে ?

ব্রহ্মদত্যি রেগে গিয়ে বললাে, আপনি কি বিচারপতি হয়েছেন ক্ষমতার বলে? তা আপনার বিচারে রায়টা কি শুনি? | গামদো শিয়ালের মত অত্যন্ত চতুর। সে বুঝেই নিয়েছে উল্টো পাল্টা বললে, ব্ৰহ্মদত্যি রেগে গিয়ে তাকে তুলে আছাড় মারতে পারে, তাই সে বললাে, আরে তােরা শাকচুন্নী। তােরা থাকবি তেঁতুলগাছে, নয় বাঁশ গাছে, নয়তাে বা ‘গু’ বাগানে, তােরা কি থাকবি বকুল গাছে? ও তাে ব্রহ্মদত্যিদের চিরদিনের আশ্রয়।

ব্রহ্মদত্যি এবার খুশী হয়ে বললাে, তা চতুর গামদো ভূত! তুমি ঠিক কথা বলেছ, অতি সত্যিই কথা বলেছ। তবে ঐ শাঁকচুন্নীটা দেখতে মন্দ নয়। আমার বেশ ভাল লেগেছে। ও যদি আমার সাথে ঝগড়া না করে তাে একটা ডালের একপাশে থাকতাে, আমি কোন আপত্তি করতাম না। দু’জনে কেমন থাকতাম বকুল গাছে? আমার ওর জন্য ভীষণ দুঃখ হয়। ওকে আমার ব্যথা দেওয়ার এতটুকু ইচ্ছা ছিল না। কারাের মনে ব্যথা দেওয়ার স্বভাব আমার নেই। যাগে ‘ও যদি এখানে থাকতে চায় থাকুক। এমন কি আমায় যদি বিয়ে করেও থাকতে চায় তাতেও আমার আপত্তি এতটুকু নেই।।

গামদো ভূত এসব কথা শুনে সাহসে বুকটা ফুলিয়ে বললাে, আপনার মতাে একজন ব্যক্তিকে স্বামীরূপে পেয়ে শাকচুন্নী উদ্ধার হয়ে যাবে। আপনার মতাে একটা সুপুরুষ বর ‘এ’ জোগাড় করতে পারবে?

ব্রহ্মদত্যি শুনে মহাখুশি হয়ে অহংকার করে বললাে, তাতাে বটেই! ও জন্ম * জন্মান্তর তপস্যা করে আমার মতাে ছেলে এই দেশে জোগাড় করতে পারবেনা।রাজপুত্র নাই বা হলাম! কুলীন ব্রহ্মদত্যি তাে বটে।

গামদো বললাে, ঠিক আছেব্রহ্মদত্যি মশাই। কোন চিন্তা নাই। আমি সব ব্যবস্থা করবাে৷ এখন তাহলে আসি। এই বলে গামদো অঞ্চল প্রধান ব্ৰহ্মদত্যির কাছে বিদায় নিয়ে শাঁকচুন্নীদের কাছে এল।

শাকচুন্নীরা গামদোকে বললাে, কি ব্যবস্থা করলেন বলুন আমাদের সবার কাছে। গামদো গর্বে বুক ফুলিয়ে বললাে, আমি যাই তাই অঞ্চল প্রধান নয়, এমন ব্যবস্থা

এসেছি, শুনলে তােমরা সবাই অবাক হয়ে যাবে। এমন ব্রহ্মদত্যিটাকে ধমক দিয়েছি, টা শেষে বলে কিনা? শাঁকচুন্নীকে আমি বিয়ে করবাে। আমি বললাম, বিয়ে করবাে বললেই তাে হলাে না, আগে ওদের মতামতটা জানি।

| বকুল গাছেরশাঁকচুন্নী তাে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ঝাপিয়ে সকলকে অর্থাৎ ডিঙিয়ে বললাে, প্রধান মহাশয় আপনি না বলে আসেননি-তাে? আমার ওকে ভাল লেগেছিল - প্রথম দেখায়। শুধু বকুল গাছ থেকে তাড়িয়ে দিতে আমার মাথাটা কি রকম গরম হয়ে গেল? | অন্যান্য শাকচুন্নীরা তখন রেগে গিয়ে বললাে, তাই যদি ওকে বিয়ে করবি, তবে এত কাণ্ড করার কি ছিল? আমাদের লজ্জায় ফেলার! চল সব-শাঁকচুন্নীরা ঘরে যাই। যার - জন্য করি চুরি সেই কিনা বলে মােদের চোর? লজ্জায়নাক কান কাটা যায় গা। চলােচল্।

এরপর ভাল একটা পূর্ণিমার দিন দেখে শাকচুন্নীর সাথে ব্রহ্মদত্যির বিয়ে হয়ে গেল। এখন শাকচুন্নী আর ব্রম্ভদত্যির কোন গণ্ডগােল হয় না। দু’জনে পরম সুখে এখন, বকুল গাছে করে বাস।


Author : তারা কুমার ভট্টাচারিয়া
Date : 2019-07-14 05:46:30

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-:Advertisement:-