-: advertisement :-

চাষার ছেলে এবং ভূত


ছেলে বলল, হাটতলায় যাচ্ছি। সেখানে অনেক লােক আছে সব লােককে দেখিয়ে দেখিয়ে পিঠে খাব।

| এই বলে সেনাচতে নাচতে হাটের পথে চলল, আর মুখে বলতে লাগল, একটা | হাব, দুটো খাব, গাঁচ ব্যাটাকেই চিবিয়ে খাব।

১. আকাশে খুব চড়া রােদ উঠেছে। হাট এখনাে খানিক দূরে। চাষার ছেলের মাথা তেতে উঠেছে, সারা গা ঘামে ভিজে গেছে। পথের পাশে একটা বটগাছ দেখতে পেয়ে ভাল, এর ছায়ায় একটু জিরিয়ে নিই, তারপর হাটে যাব।।

| গাছতলায় বসেও চাষার ছেলে পিঠেগুলােকে দেখতে লাগল আর বলতে লাগল, একটা খাব, দুটো খাব, গাঁচ ব্যাটাকেই চিবিয়ে খাব। | এখন হয়েছে কি, ঐ বটগাছটায় পাঁচটা ভূত বাস করে। চাষার ছেলের পাঁচ ব্যাটাকেই চিবিয়ে খাব’ শুনে ভূতগুলাে তাে বড় ভাবনায় পড়ে গেল। তাইতাে, এখন তবে কি করা যায় ? যদি ঐ ছোঁড়াটা আমাদের পাঁচজনকেই ধরে চিবিয়ে খায়, তাহলে তাে বড় মুশকিলের কথা হবে!

তখন তারা পাঁচজনে বসে যুক্তিটুক্তি করে একটা ছােট থলি নিয়ে ঝুপঝুপ করে গাছ থেকে লাফিয়ে পড়ল চাষার ছেলের সামনে। ভূতগুলােকে দেখে চাষার ছেলের যে কী ভয় হল তা বলার নয়। সে এমনই চমকাল, তেমন আর কখনাে চমকায়নি। • কিন্তু ভূতগুলাে যখন হাতজোড় করে বলল, দয়া করে আমাদের চিবিয়ে খাবেন না, এইটা নিয়ে আমাদের ছেড়ে দিন। তখন চাষার ছেলের মনে খানিক সাহস ফিরে এল। সে জিজ্ঞেস করল, এই থলি নিয়ে আমি কি করবাে?

ভূত বলল, থলিটা উল্টোলেই মােহর পড়বে, আবার সােজা করলেই মোট পড়া বন্ধ হয়ে যাবে।

--- কৈ দেখি কেমন মােহর পড়ে। | চাষার ছেলে থলিটা নিয়ে উলটে ধরতেই ঝরঝর করে মােহর পড়তে লাগল

থলিটা সােজা করে, মাটি থেকে মােহরগুলো তুলে নিয়ে সে বলল, ঠিক আছে যা। তােদের ছেড়েই দিলাম। | ভূতগুলাে তড়াক করে লাফিয়ে গাছে উঠে গেল। | চাষার ছেলের হাটে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল। সে কপাকপ পিঠেগুলােকে মুখে ' দিয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দিল।।

যাওয়ার পথে তার এক বন্ধুর বাড়ি পড়ে। বন্ধুর বাড়ির সামনে আসতেই তার মনে হল, এমন একটা সুখবর তাে বন্ধুকে না দিলেই নয়। এই ভেবে সে বন্ধুর বাড়ির

দরজায় কড়া নাড়তে লাগল। '' বন্ধু তাকে দেখে বলল, আয় আয়, ঘরে আয়। কিছু খবর আছে নাকি রে?

চার ছেলে বলল,হ্যা ভাই সুখবর আছে। খবরটা তােমাকে না জানিয়ে থাকতে পারছিনে। এই দেখো -

থলিটা উলটাতেই মোহর পড়তে লাগল। দেখে বন্ধুর দু’চোখ তাে ছানাবড়া। লােভে তার দু'চোখ জ্বলতে লাগল। ভাবল, এমন জিনিসটা তােনা বাগালেই নয়। সে বলল, বাঃ বাঃ! তােমার ভাগ্য খুবই ভাল, তাই এমন জিনিস পেয়েছে ! ইস কী ঘেমে গেছ! এসাে এসাে, ঘরে এসে বসো। খানিক জিরিয়ে নিয়ে তারপর যেও।

চাষার ছেলে ভাবল, কথাটা মন্দ নয়। একটু জিরিয়ে-টিরিয়ে যাওয়াই ভাল।

এই ভেবে সে বন্ধুর ঘরে গিয়ে বসল। বন্ধু বলল, শুয়ে পড়াে ভাই, আমি । তােমাকে খানিক হাওয়া করি, তাহলে তাড়াতাড়ি তােমার শরীর ঠাণ্ডা হবে।

চাষার ছেলে শুয়ে পড়ার এটুপরেই ঘুমিয়ে পড়ল।তখন বন্ধুকরল কি, ঠিকএকই। রকম দেখতে একটা থলি এনে চাষার ছেলের থলিটার সঙ্গে পালটা-পালটি করে নিল। . চার ছেলের ঘুম ভাঙলে সেনকল থলিটা নিয়েই বাড়িতে গিয়ে মাকে বলল, দেখাে মা কী এনেছি। আমাদের সব দুঃখ-কষ্ট দূর হল। । | মা বলল, কৈ, কী এনেছিস দেখি।

-এই যে।। -এ তাে একটা থলি। – এটা যাদু থলি মা। দেখাে এর গুণ কী!

চাষার ছেলে থলিটা উপুড় করল। হায় হায়,একটা মােহরও যে পড়ছেনা।বে। থলিটা ধরে ঝাকাতে লাগল। কিন্তু কিছুনা।

মা জিজ্ঞেস করল, কি রে, ওটা অমন ঝাড়ছিস কেন? হেলে বলল, এটা উপুড় করলেই মােহর পড়ত, এখন যে কেন পড়ছে না।

মা বড় ভাবনায় পড়ে বলল, কোথায় কার কাছে গিয়েছিলি, কে তােকে থালটা | দিল? সে-ই তাের মাথাটা বিগড়ে দিয়েছে! থলি ঝাড়লে মােহর পড়ে কখনাে ?

—হ্যা মা, সত্যি বলছি। এই দেখাে না আমার পকেটে কতগুলাে মােহর রয়েছে হলটা থেকেই তাে এগুলাে বেরিয়েছে। এই নাও।..

মায়ের মুখ দিয়ে আর কথাই বার হল না। ছেলে বলল, ভূতগুলাে আচ্ছা পাজি তাে! আমাকেওরাঠকিয়েছে!আচ্ছা দেখছি! মা ভয় পেয়ে বলল, ভূত আবার কিরে? -পরে তােমাকে সব বলব মা, আমি আসছি।

এই বলে চাষার ছেলে ছুটতে ছুটতে সেই গাছতলায় এসে বলতে লাগল, একটা খাব, দুটো খাব, পাঁচ ব্যাটাকেই চিবিয়ে খাব। একটা খাব, দু’টো খাব, পাঁচ ব্যাটাকেই .. চবিয়ে খাব!

এমনি বলতে লাগল আর ঘুরে ঘুরে নাচতে লাগল।

ভূতগুলাে থলিটা দিয়ে ভেবেছিল, যাক বাঁচা গেল। কিন্তু মানুষটা যে তাদের | চিবিয়ে খাবার জন্যে আবার এসে হাজির হবে, তা তারা ভাবতেই পারেনি। তারা আবার খুব ভয় পেয়ে, ঘাবড়ে গিয়ে ঝপাঝপ গাছ থেকে লাফিয়ে নেমে এসে বলল, কি কুর্তা, আমরা আপনাকে অমন একটা থলি দিলাম,বুও আমাদের আবার চিবিয়ে খেতে এলেন।

*

চাষার ছেলে বলল, তােদের চিবিয়ে খাব না তাে কি আদর করবাে? তােরা আমাকেঠকিয়েছি, একটা বাজে থলি দিয়েছি।দু'একবার মােহর পড়ে আর পড়ছেনা!

ভূতেরা তখন একটা হাঁড়ি দিয়ে বলল, তবে এটা নিয়ে যান। আপনার যখন যা খেতে ইচ্ছে হবে, এর মধ্যে হাত দিলেই পেয়ে যাবেন।

চাষার ছেলে বলল, বটে! দেখি কেমন পেয়ে যাই! আমার ক্ষীর, ছানা, রাবড়ি, রাজভােগ, পায়েস খেতে ইচ্ছে হচ্ছে।

এই বলে সে হাঁড়ির মধ্যে হাত দিল আর এক-এক রকমের জিনিস বার করতে লাগল, আর খেয়ে দেখতে লাগল। আঃ! কী সুন্দর খেতে। এমন সুস্বাদু খাবার সে কখনাে খায়নি।

ভূতেরা বলল, কি কর্তা, আমরা কি আপনাকে ঠকালাম? -না ঠিক আছে।

বলে হাঁড়িটা নিয়ে চাষার ছেলে চলে গেল। সেই বন্ধুর বাড়ির সামনে দিয়ে যাবার সময় ভাবল, এই হাঁড়িটা একবার বন্ধুকে না দেখালেই তাে চলছে না। আমার

এমন সৌভাগ্যের কথা শুনলে, বন্ধু হিংসায় নিশ্চয় জ্বলে-পুড়ে মরবে তখন তােখ মজাই হবে।

ভেবে, বন্ধুর দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ল।

বন্ধু তাকে দেখেই আঁতকে উঠল, ভাবল, এই রে, চাষার পাে বােধহয় ৯ '' পেয়ে থলিটা নিতে এসেছ। মুখে বলল, কি ভাই, কি মনে করে?

চাষার ছেলে বলল, দেখাে ভাই, কেমন হাঁড়ি পেয়েছি। বল তুমি কি কি খেতে চাও, সব হাঁড়ি থেকে বার করে দেব।

তাই বুঝি! আমার এখন মাংস আর পােলাও খেতে ইচ্ছে হচ্ছে।

যেমনি বলা, অমনি হাঁড়ির মধ্যে ভুরভুর করে মাংস-পােলাওয়ের গন্ধ বার হতে লাগল।

বন্ধু অমনি ঘর থেকে থালা এনে খেতে বসে গেল। তারপর একসময় ঠিক অমনি একটা হাঁড়ি এনে চাষার ছেলের হাঁড়ির সঙ্গে পালটা-পালটি করেতাকেবিদায় দিল।

বাড়িতে পা দিয়েই চাষার ছেলে চেঁচিয়েহড়িমাথায়রুল,-মা,মা, দেখকিএনেছি! মা বেরিয়ে এসে মুখ বেঁকিয়ে বলল, দেখি আবার কি হাতি-ঘােড়া এনেছি। —এই হাঁড়িটা এনেছি। ' মা তেমনিই খেকিয়ে উঠে বলল, এই হাঁড়িটা উলটালে কিমণিমুক্তাঝরে পড়বে?

ছেলে বলল, না মা, এবার আর থলির মত হবে না। বল তুমি কি খেতে চাও? যা যা খেতে চাইবে, সব হাঁড়ি থেকে বার করে দেব।

' মা বলল, ভূতেরা দেখছি তাের মাথাটা একেবারে বিগড়ে দিয়েছে! ' বল না কি খেতে চাও?

– আমি একছড়া মর্তমান কলা খেতে চাই। ' চাষার ছেলে হাঁড়ির ভেতর হাত ঢােকালে, কিন্তু ফঁক্কা!হাঁড়ি ফাকা। তা থেকে কিছুই বর হল না। মা বলল, কৈ রে, কলা দে।

• • চাষার ছেলের মুখ হাঁড়ি। ভূতগুলাে আবার ঠকাল তাকে! কিন্তু ওরা যে ঠকিয়েছে, একথা ভাবতেও তাে পারছে না। এই তাে খানিক আগেই মাংস-পােলাও বার করে বন্ধুকে খাইয়ে এল।তবে? তাহলে কিআমাদের বাড়িটাই অপয়া ?নাঃ, আর একবার যেতে হচ্ছেহারামজাদা ভূতগুলাের কাছে। দেখি তাে ব্যাটাদের ব্যাপারটা কি, কেন এমন হচ্ছে?

| আবার সে বটগাছতলায় গিয়ে ঐ কথা বলে নাচতে লাগল। ভূতেরা তার কাছে এসে বলল, আবার আপনি কেন এলেন? আপনাকে তাে আমরা দু-দুটো দামী জিনিস। দিলাম, তবু আমাদের খেতে চাইছেন কেন?

''চাষার ছেলে রেগেমেগে বলল, তােদের খাব না তাে কি করবাে! এবারে আর চিবিয়ে খাব না –একব্যাটাকে ধরবাে আর টপাটপ গিলে খাব।

- কেন কর্তা, আমরা কি দোষ করেছি?

আমাকে বারবার তােরা ঠকাচ্ছিস। এবারাে হাঁড়িথেকে খাবার বের হলনা মা কলা খেতে চাইল, আমি দিতে পারলাম না। কাদের চোখ একেই তাে বড় বড়, গোল গেলি। চোখগুলােকেআরও বড় বড় **

কী বলছেন আপনি? বললেন থলি থেকে মোহর বার হয়নি, হাঁড়ি থেকে এ পর হয়নি-এমন তাে হবার কথা নয়। থলি আর হাঁড়ি নিয়ে বাড়ি যাবার পথেআপিন কি আর কোথাও গিয়েছিলেন? | চাষার ছেলে বলল, হ্যা, বন্ধুর বাড়ি গিয়েছিলাম। | শুনে ভূতগুলাে খা-খাক করে কী হাসিটাই যে হাসল। চাষার ছেলে খেকিয়ে উঠে বলল, তােরা হাসছিস যে বড়? | ভূতেরা বলল,এবার বুঝতে পারছিকি হয়েছে। আপনার ঐ বন্ধুটাই থলি, হাড় সরিয়ে নকল থলি,হাঁড়ি আপানকে গছিয়েছে। আচ্ছা,এবার সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এই মুগুরটা আপনি নিয়ে যান। এই মুগুরই আপনার থলি আর হাঁড়ি ফিরিয়ে এনে দেবে।

| চাষার ছেলেও এবার বুঝল,হ্যা এইসব শয়তান বন্ধুটার কাজ।তাকে ঘুম পাড়িয়ে সে হাঁড়ি, থলি বদল করে নিয়েছে।

সে জিজ্ঞেস করল, এই মুগুরের কি গুণ ? কেমন করে ওসব আদায় হবে? | ভূতেরা বলল, আপনি বন্ধুর বাড়ি গিয়ে শুধু বলবেন, মুগুর, আরম্ভ কর, অমনি আপনার বন্ধুকে পিটিয়ে থেঁতলা করে দেবে। জিনিস দুটো ও ফেরত দিলে মুগুরকে থাম্ । বলবেন,অমনি থেমে যাবে। যতক্ষুণর্না ফেরত পাবেন, পিটুনি চলতে থাকবে,বুঝেছে?

চাষীর ছেলে মুগুরটা নিয়েআনন্দে লাফাতে লাফাতে বন্ধুর কাছে গিয়ে বলল, একটা খুব মজার জিনিস এনেছি ভাই দেখবে? ,

– দেখি দেখি। —এই যে দেখ। বলে মুগুরটা বার করে বলল, মুগুর আরম্ভ ক!

ব্যস আর যায় কোথা! মুগুর দুয়াদম পড়তে শুরু করল বন্ধুর পিঠে। তখন বেচারীর কী চেঁচানি আর লাফানি –মলাম রে! পেলাম রে! ওঃ! আঃ!উহু!,

চাষার ছেলে হাসতে হাসতে বলল, থলি আর হাঁড়ি চুরিকার মজাটা এবার দেখ!

বন্ধু বলল, তােকে ও দু’টো ফেরত দিচ্ছি ভাই, মুগুরকে থামতে বলরে! ওঃ,. মরে গেলাম – মরে গেলাম!

—আগে থলি-হাঁড়ি নিয়ে আয়,তারপর মুগুর থামবে। | মুগুরের পিটুনি খেতে খেতেই বন্ধু থলি আর হাঁড়ি এনে দিল। চাষার ছেলে থলিটা উপুর করতেই মােহর পড়তে লাগল,আর পানতােয়ার কথা বলতেইহাঁড়ি থেকে পানতােয়া বের হল। ২ | আর কি হাঁড়ি, থলি আর মুগুর নিয়ে চাষার ছেলে বাড়ি এল। সে দেখতে দেখতে থলির দৌলতে দেশের মধ্যে সবচেয়ে ধনীলােক হয়ে উঠল। তখন তার যা খাতির হল তা আর বলার নয়। গ্রাম-গঞ্জের জমিদার থেকে শুরু করে দেশের রাজা পর্যন্ত

তাকে খ্যাতির করতে লাগল। এ গ্রামের ও গ্রামের জমিদারদের বাড়ি থেকে প্রায়ই নেমতন্ন আসতে লাগল, রাজামশাইও মাঝে-মধ্যে কাজে-কর্মে তাকে নিমন্ত্রণ ক . খাওয়াতে লাগলেন।

| এরই মধ্যে একদিন হল কি, একভিনদেশী রাজা এই দেশ আক্রমণ করার জন সীমান্ত বরাবর তাবু ফেলল। সেই তাবুতে হাজার হাজার সৈন্য জমায়েত হতে লাগল। চর-মুখে এই সংবাদ পেয়ে রাজামশাই তাে মহাভাবনায় পড়ে গেলেন। ঐ বিদেশী রাজার মত তার অত সৈন্যবল নেই তিনি যে কি করে বুঝবেন বুঝে উঠতে পারছে না। তখন তিনি চাষার ছেলেকে ডেকে এই বিপদের কথা বললেন। চাষার ছেলে বলল, কোন চিন্তা নেই মহারাজ, আমি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। . রাজা বললেন, তুমি আর কি ব্যবস্থা করবে ভাই? ঐ রাজাটা বড়ই সাংঘাতিক। ওর ক্ষমতা আমার চেয়ে চতুগুণ বেশি!

-আচ্ছা দেখুন না আমি কি করতে পারি। আমি দু’ঘন্টাতেই ওদের শায়েস্তা করে আসবাে।

চাষার ছেলে রাজার কাছ থেকে একটা ঘােড়া চেয়ে নিয়ে তাতে চেপে,মুগুরটা বগলে নিয়ে সীমান্তের দিকে ছুটে চলল। শত্রুতাবুর কাছে পৌছেই মুগুরকে বলল, মুগুর আরম্ভ কর। এখানে যত সৈন্য-সামন্ত আছে, সকলকে মেরে ভাগিয়ে দে।

• অমনি এক আশ্চর্য ব্যাপার ঘটে গেল। ঐ একটা মুগুর থেকে হাজারে হাজারে। মুগুর বেরিয়ে হাজার হাজার সৈন্যের পিঠে গিয়ে আছড়ে পড়ল। ওঃ, সে-কী পিটুনি! পিটিয়ে সমস্ত সৈন্যের হাড়-মাস এক করে দিল। অস্ত্রশস্ত্র, ঘােড়া-টোড়া ফেলে তারা যে যেখান দিয়ে পারল দৌড়ে পালাতে লাগল। ছুটতে গিয়ে বহু সৈনিকের হাত ভাঙল, পা ভাঙল, মাথা ফাটল। আর রাজার মাথায় একটা মুগুর পড়তেই ধপাস করে মাটিতে পড়ে গিয়ে সে কাতরাতে লাগল। চাষার ছেলে তখুনি ছুটে গিয়ে তাকে আচ্ছা করে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলল, তারপর এনে হাজির করল এই দেশের রাজার কাছে। রাজা ঘাতককে ডেকে বললেন, এই ব্যাটাকে শূলে চাপিয়ে দে। | তখন বিদেশী রাজা দেশের রাজার হাতে-পায়ে ধরে বলতে লাগল, আমাকে প্রাণে মারবেন না মহারাজ, এই নাক মলছি, এই কান মলছি, এমন কাজ আর কখনাে করতে আসবাে না।

. তখন রাজা বললেন, উঁহু, শুধু একথা বললে, ক্ষমা পাওয়া যাবেনা।তারপর ' চাষার ছেলেকে দেখিয়ে বললেন, যদি এই ছেলের সঙ্গে তােমার মেয়ের বিয়ে দাও এবং যদি একে তােমার অর্ধেক রাজ্য দান কর, তবে তােমায় ক্ষমা করতে পারি, নইলে তােমাকেশূলে চাপতেই হবে।

বিদেশী রাজা বলল, আপনি যা বলছেন, তাই হবে মহারাজ।

তারপর খুব সুখের কথাই হল। বিদেশী রাজার মেয়েকে বিয়ে করে চাষার ছেলে সে-দেশের অর্ধেক অংশের রাজা হয়ে সিংহাসনে বসল।


Author : তারা কুমার ভট্টাচারিয়া
Date : 2019-07-14 02:40:53

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-:Advertisement:-