-: advertisement :-

অধ্যাপক ভূত


আজ থেকে অনেকদিন আগের একটা গল্প। পেটুক গোঁসাই ঠাকুর নামে একটা লােক ছিল। পেটুক গোঁসাই ঠাকুরের তখন বয়স প্রায় ত্রিশের কাছাকাছি। কলকাতায় একটা বিশেষ কাজ সেরে ‘ও’ ঠিক করলাে বাড়ী না ফিরে হাওড়া জেলার পিছলদহ গ্রামে যাবে। সেখানে এক বিয়ে বাড়ীর নিমন্ত্রণ রক্ষার জন্য। মাকে বলেই এসেছে, সুতরাং চিন্তার কিছু কারণ নেই। চিন্তার কারণ শুধু যা ছিল একটাই, সেটা হলাে ‘ও’ছিল তখন বেকার।‘ও’যখন তখন একটা কবিতা বন্ধু-বান্ধবদের প্রায়ই শােনাতাে। সেই কবিতাটি হলাে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের লেখা

| দেওয়ালে দেওয়ালে মনের খেয়ালে ..

| লিখি যে কথা।

আমি যে স্কোর পেয়েছি লেখার

| স্বাধীনতা। পকেটে নেই নিজের মেহনতে উপার্জনের পয়সা। বাবা-মার পয়সার কেবল ছিল তার ভরসা। চোখে স্বপ্ন ছিল রাশি রাশি, ধাক্কা খেয়ে খেয়ে তখন সােনা হচ্ছেখাঁটি। কত প্রতারণা, কত প্রবঞ্চনা,কত অপমান মুখ বুঝে অনেক সময় মানুষটাকে সহ্য করতে হয়েছে। প্রতিবাদেমুখর হতে গিয়ে অনেকন্যায্য পাওনা থেকে বেচারীকে বঞ্চিত হতে হয়েছে। কিন্তু কেউ বােঝেনি তাকে। যার বিরুদ্ধে সে কথা বলত তাকেও মানুষটা ভালবাসতাে। শুধু পরিশুদ্ধ করার জন্য তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতাে, কেউ বুঝতে পারতাে না আজও পারে না। দেশের অতি বদমাস মানুষ থেকে অতি ভাল

মানুষও সমানভাবে ভালবাসে এই মানুষ টাকে। এর আত্মপ্রকাশ যদি সময়ে হতােত একে সমগ্র দেশবাসী চিনতে পারতাে, মানুষটা কেমন!

| আজ‘এ’হারিয়ে ফেলেছেদীর্ঘদিনের সাধনার ফসল।হারিয়ে ফেলেছেনচিকেতা | ঘােষ, সম্পূর্ণা ঘােষ, বিমলভূষণ, মণি দত্ত, দেবীদাস চ্যাটার্জী ও নিজের বাবা ও জেঠুদের এবং আরাে কত আপন জনদের। তাদের নাম এখন বলছিনা, বললে শেষ করা যাবে

। এরা কেমন ভালবাসতেন আমি ঠিক জানি না, কিন্তু বেচারী পেটুক গোঁসাই ঠাকুর এদের প্রত্যেককে প্রচন্ড ভালবাসতাে। পেটুক গোঁসাই ঠাকুর একটু ভালবাসার কাঙাল। টাকা পয়সা দিয়ে একে ভােলাতে কেউ পারবে না, একে ভালবাসা দিয়ে যে কেউ ভুলিয়ে নিতে পারবে। ভালবাসায় ‘এ’হয়ে যেতে পারে যে-কোন লােকের কেনা গোলাম। পৃথিবীর সব ঘর আমার ঘর, যে বলতে পারে, তার কাছে, কে আপন কে পর থাকতে পারে? সবাই আপন হয়ে যায়। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে—তা হয়নি। | বেশ মনে আছে বয়সটা তখন অল্প থাকায় বেচারী ছিল একটু মেজাজী এক রােখা ভীষণ ভাবপ্রবণ। কোন মানুষের একটু এদিক ওদিক কথা শুনলেই মনের ভিতর হয় ওর ভীষণ তােলপাড়। সেই গল্পটাই আমি এখন বলি।

| কলকাতা থেকে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছেবাগনান পর্যন্ত রেলের টিকিট কাটলাে। টিকিট কাটা হয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে ‘ও’ গিয়ে বসলাে রেলের একটা কামরায়। সেই কামরায় কিছুক্ষণ পর মানুষের দেহধারী এক ভূত উঠলাে আরাে কিছু লােকের সাথে। ভূতটা যাই তাই ভূত নয়। ভূতটা হলেন একজন অধ্যাপক। পেটুক গোঁসাই ঠাকুর যে কলেজে পড়াশুনা করতাে,এই অধ্যাপক ছিলেন সেই কলেজের ইংরাজীর অধ্যাপক। নাম রামদাস গুণ। হীরে নগরের ইনি ছিলেন বিখ্যাত ব্যক্তি।

বেশ মনে আছে কলেজে একবার কিটপ্রে ওভ-টু-এ নাইট অ্যাঙ্গেল পড়াচ্ছে। শ্রেণীর সমস্ত ছাত্র ছাত্রীরা একেবারে নীরব। এত সুন্দর পড়াচ্ছিলেন শ্রেণীকক্ষের সমস্ত ছাত্র ছাত্রীরা মুগ্ধ হয়ে শুনছে। এমন সময় কাগজে একটা চিরকুট লিখে এক ছাত্র এক ছাত্রী বন্ধুর দিকে ছুঁড়ে দিলেন। প্রকৃত অধ্যাপকের চোখকে কেউ ফাঁকি দিতে পারে না। তিনি পড়ানাে বন্ধ করে দিলেন। উনি ছােট্ট ছােট্ট করে বাংলা ভাষার শুধু কয়েকটি কথা বললেন। কথাগুলাে হ’ল আমার প্রিয় ভাই ও বােনেরা। তােমরা যেখানে একশত কুড়িজন ছাত্রছাত্রী বসে আছে। তােমাদের আচার আচরণের মধ্যেই তােমাদের একশত কুড়িজনের পরিবারকে দেখতে পাচ্ছি। তােমরা যে যতই ভাল পােশাকে উপস্থিত হও, আমি তােমাদের আচার-আচরণে তােমাদের পরিবারের প্রত্যেকের মুখ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। এর বেশী আমি আর কিছু বলতে চাই না। বলেই উনি হন হন করে শ্রেণী কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলেন। সমস্ত ছাত্রছাত্রীরা অধ্যাপকের এই কথা শুনে লজ্জায় মাথা হেট করে বসেছিলেন। . কেউ বুঝেছিলেন কিনা অধ্যাপকের এতবড় কথা, ঠিক জানা নেই কিন্তু পেটুক গোঁসাই। ঠাকুর ভালই বুঝেছিলেন।

ইনিই সেই ভূত অধ্যাপক। রেলের কামরায় ইনি এসে বসলেন একেবারে পেটুক। গোঁসাই ঠাকুরের সামনের আসনে। পেটুক গোঁসাই ঠাকুর তাকে চিনতে পারলাে না। কিন্তু ভূত অধ্যাপক তাকে চিনেই এসেছে।

| এইবার শুরু হলো বাক্যালাপ। ভুত অধ্যাপক পায়ের উপর পা রেখে এমন ভাবে পা নাড়ছে পেটুক গোসাই ঠাকুরের সামনে সে বিরক্ত হয়ে উঠলাে। পেটুক গোঁসাই ঠাকুর বললাে, এরকম পা নাড়ছেন কেন? অধ্যাপক কোন উত্তর না করে আরাে বেশী করে পা নাড়াতে লাগলেন। পেটুক গোঁসাই ঠাকুর বার বার এরকম করে বলেও উত্তর না পেয়ে খুব রেগে শেষে চিৎকার করে বললাে, আপনি আপনার পা নাড়াটা থামাবেন কি?ভূত অধ্যাপকতখন ভীষণ ব্যক্তিত্ব নিয়ে বললেন, আপনার শরীরের কোথাও লাগছেনাতাে,তা হলে?

পেটুক গোসাই ঠাকুরের আর কোন উত্তর করতে না পেরে ভাবতে লাগলাে, সামনের ভদ্রলােককে কি করে জব্দ করা যায়?

পেটুক গোসাই ঠাকুর সামনের ভদ্রলােক অর্থাৎ ভূত অধ্যাপক পানাড়াটা আরাে জোরে জোরে বেশী করে কিন্তু চালিয়ে যাচ্ছেন।

* পেটুক গোঁসাই ঠাকুর ভাবছে তাে ভাবছে। ভেবে মােটেই বুদ্ধি খাটিয়ে কিছু .. বার করতে পাচ্ছে না। বিবেকানন্দ, সুভাষ, রবি ঠাকুর, নজরুল, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র প্রভৃতি মহাপুরুষদের কথা ভাবতে ভাবতে তার মনে পড়ে গেল বাংলার বাঘ আশুতােষ। মুখার্জীর কথা।

. বাংলার আশুতােষ মুখার্জী ট্রেনের একই কামরায় এক সাহেবের সাথে একবার যাচ্ছিলেন। সাহেবের মােটেই পছন্দ ছিল না বাঙালী আশুতােষ মুখার্জীর জুতাে জোড়াটা, তাই তিনি সেই জুতাে জোড়াটি তার অলক্ষ্যে ট্রেনের কামরা থেকে বাইরে ফেলে দিয়েছিলেন।

এরপর সাহেব নিজের গায়ের কোট খুলে কামরার এক স্থানে টাঙ্গিয়ে রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। আশুতােষ মুখার্জী হঠাৎ দেখেন তার জুতা জোড়াটা কামরার কোথাও নেই। বুঝতে পারলেন এ হচ্ছে সাহেবের কান্ড;তাই তিনি তখন সাহেবের গায়ের কোটটা নিয়ে ট্রেনের কামরার বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। সাহেব ঘুম থেকে উঠেতার কোট না দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলেন। কোটটা এখানে ছিল কোথায় গেল? আশুতােষ মুখার্জী উত্তরে বলেছিলেন, আপনার কোট আমার জুতাে জোড়া - আনতে গিয়েছে। সাহেবের সমস্ত আস্ফালন মুহূর্তে চুপ হয়ে গেল।

পেটুক গোঁসাই ঠাকুর বাংলার বাঘের সেই সব কথা মনে করে ঠিক করে ফেললাে সামনের ভদ্রলােককেও একেবারে চুপ করিয়ে দেবে। ভদ্রলােক তাে সাহেব নয়।না হােক। ব্যবহারটা সাহেবের চেয়েও বাজে লাগছে। ভাবা যা করা তাই।

পেটুক গোঁসাই ঠাকুর নিজের পায়ের চটি একটা খুলে ভদ্রলােকের অর্থাৎ ভূত* অধ্যাপকের মুখের কাছে একবার এদিক আর ওদিক করতে লাগলাে।

ভূত অধ্যাপক রামদাস গুণ খানিকক্ষণ নীরব থাকার পর বললেন, এটা কি হয়

গোঁসাই ঠাকুর বললাে, আপনার তাে শরীরের কোথাও লাগছে না। সুত বলার কিছু নেই। এটা আপনার কাছেই শেখা এক আদিম সভ্যতা।

ভূত অধ্যাপক মুচকি হেসে আর পা না নেড়ে চুপ করে বসে রইলেন।

পেটুক গোঁসাই ঠাকুর মুচকি হাসার অর্থ কিছুই বুঝতে পারলাে না। ঐ ভূত । পেটুক গোঁসাই ঠাকুরের কলেজ শিক্ষাগুরু তখনও টের পায়নি। পেয়েছিল অনেক পরে এবার সেই ঘটনাটা বলি।

| ঐ ট্রেনের কামরায় একজন ভদ্রমহিলাও ছিলেন। ভদ্রমহিলার পরণে ছিল সুন্দ বেনারসী শাড়ি। কপালে বিরাট একটা সিঁদুরের ফোঁটার সিঁথেয় চওড়া করে সিঁদুর দেওয়া দেহের রঙ দুধে আলতার মতাে। গায় সীতাহার এক কথায় বলা যায় তার সর্বাঙ্গ সােনায় | ঢাকা। দেখতে আহামরি না হলেও সুন্দরী বটে। কামরার মধ্যে প্রায় যাত্রীদের চোখ মাঝে মধ্যে তার দিকে পড়ছে।।

" এই ভদ্রমহিলা স্বামীর সাথে ঝগড়া করে বাড়ী থেকে একাই বেরিয়ে এসেছে। এর স্বামীর বাড়ী কলকাতায়।

এই ভদ্রমহিলা একা আসছে দেখে একটা লােক এর পিছু নিয়ে ঐ কামরায় এসে একটা আসন গ্রহণ করে বসে আছে। যাত্রী সাধারণের মধ্যে কেউ তা জানে না। পেটুক। গোঁসাই ঠাকুরও জানে না। কিন্তু জানেন ঐ ভূত অধ্যাপক রামদাস গুণ। রামদাস গুণের দূর সম্পর্কের এক শালীর মেয়ে ছিল এই ভদ্রমহিলা। এর কারণে ভূত অধ্যাপক ঐ কামরায় উঠেছিলেন। ভদ্রমহিলাও ওনাকে চিনতে পারেননি। | উলুবেড়িয়া স্টেশনে ট্রেন থামতেই সেই অপরিচিত লােকটি ভদ্রমহিলার হাত। ধরে বললাে, এসাে স্টেশন এসে গিয়েছে, নেমে যাই, দেরি করলে ট্রেন ছেড়ে দেবে যে। ভদ্রমহিলা উত্তরে বললাে, কে আপনি? আপনাকে আমি চিনি না — জানি না, আপনি। এরূপ অসভ্যতা করছেন কেন? অপিরিচিত লােকটা উত্তরে বললাে,এরকম করােনা লক্ষ্মী সােনাটি। যাত্রীরা সব কি ভাববে বলাে তাে? চলাে-চলাে আর দেরি করাে না।

" ভদ্রমহিলা তখন চিৎকার করে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে বললাে, এই লােকটা আমার কেউ নয়, মিথ্যা প্ররােচনা করে আমার হাত ধরে কামরা থেকে নামিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। একজন যাত্রী তখন সেই অপরিচিতি লােকটাকে শুধু না বললে নয় তাই বললাে, আরে মশাই ‘এ’আপনার কে হয় ? | অপরিচিত লােকটা এক গাল হেসে বললাে, ‘এ’ আমার একমাত্র স্ত্রী। আমার উপর রাগ করে এরকম কথা বলছে। আপনারা কিছু মনে করবেন না। | এই বলে সেই অপরিচিত লােকটা ভদ্রমহিলার হাত ধরে টেনে নীচে নামিয়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করলাে।

ভদ্রমহিলাও বাঁচাও বাঁচাও করে চিৎকার করছে। পেটুক গোঁসাই ঠাকুরও ভাবলাে এই ভদ্রমহিলা হয়তাে ঐ ভদ্রলােকের স্বামী।স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে নাক গলানাে মন নয়। তাই সমস্ত যাত্রীর সাথে সেও চুপ করে রইল।

ভূত অধ্যাপক রামদাস গুণ উঠে দাঁড়ালেন। যেন এক বিরাট বীর পুরুষ উঠে দাঁড়ালেন। সবাই তার দিকে তাকিয়ে। ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে অপরিচিত লােকটাকে বললেন, হাতটা এর ছাড়াে। এই বলে লােকটার হাত থেকে ভদ্রমহিলাকে ছাড়িয়ে, কামরার মধ্যে বসতে বললেন।

| ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে লােকটা স্টেশনে না নেমে ভূত অধ্যাপককে বললাে, আমি । আমার স্ত্রীকে নিয়ে যাচ্ছি। আপনি বাধা দেবার কে?

ভূত অধ্যাপক রামদাস গুণ বললেন, আমি বলার কেউ নয় ঠিকই,তবে তােমার নামতাে সুবােল, তােমার স্ত্রী হলাে কি করে? চালাকি মারার জায়গা খুঁজে পাওনি? এখানে চালাকি করতে এসেছে?

| অপিরিচিত লােকটা তখন বললাে, “ও’ শালা তুই তাহলে আমায় চিনিস! যা শালা তবে খােদার কাছে যা।।

এই কথা বলেই লােকটা একটা পিস্তল বার করে ভূত অধ্যাপককে গুলি করলাে। পরপর দুটো তিনটে।

ভূতের কি তাতে কিছু হয়?ভূত অধ্যাপকের কিছুই হল না। লােকটা ভয় পেয়ে গেল। ভূত অধ্যাপক লােকটার হাত থেকে পিস্তল কেড়ে নিয়ে কামরার বাইরে ফেলে দিয়ে অপরিচিত লােকটাকে বললেন, এই রকম কত মেয়ের সর্বনাশ করেছাে, আর যেন

কখনাে এরূপ কাজ করা হয়। স্বভাবটা পরিবর্তন করাে। আমি মনে করলে তােমাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারি। আর তা যদি করি, তােমার সাথে আমার - তফাতটা থাকবে কি? | লােকটা শুনে ভয়ে ভূত অধ্যাপকের পা জড়িয়ে ধরলাে। ভূত অধ্যাপক বললেন, আমার পা জড়িয়ে না ধরে ঐ ভদ্রমহিলার পা জড়িয়ে ক্ষমা চাও। নিজের ভিতর যে বিবেক আছে, তার দংশনে পড়ে, অপরিচিত লােকটা ভয়ে তাই করলাে। বীরশিবপুর - স্টেশন আসতে লােকটা ধীরে ধীরে মাথা নীচু করে ট্রেনের কামরা থেকে নেমে গেল। * এরপর ভূত অধ্যাপক পেটুক গোঁসাই ঠাকুরকে বললেন, তুমি তাে খুব বীরত্ব দেখাচ্ছিলে! আর এত বড় ঘটনা একটা কামরায় ঘটছে এতগুলাে যাত্রী রয়েছে কেউ প্রতিবাদ তাে করলে না এবং তুমিও করলে না। তােমরা কি মানুষ? সবাই জোট বেঁধে

বাধা দিলে ঐ লােকটা এত বড় অন্যায় কাজ করতে সাহস পেত কি? আসলে কেউ আর। কারাে বিগুদে দাঁড়াতে চাও না।সবাই নিজেকে নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত। কে মরলাে কে বাঁচলাে। তার খবর রেখে লাভ কি? নিজে বাঁচলেই যথেষ্ট। ঠিক তাই সমাজে হয় কি? কেউ। বাঁচবে না —এমনি নীরবদর্শকের ভূমিকায় বসে থাকলে, দেখবে এই যন্ত্রণা একদিন তােমাদের প্রত্যেকের জীবনে এমন কি ঘরে ঘরে উপস্থিত হবে। | নিজের বাড়ীর পাশের প্রতিবেশী পাশে দাঁড়াবে না সহযাত্রীর বিপদে রুখে | দাঁড়াবে না। সেই বিপদ যখন একদিন তােমাদের প্রত্যেকের উপর পর পর আসবে।

তখন মনে পড়বেই পড়বে। আমরা প্রত্যেকে এই অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করার জন্য অন্যায় অর্থাৎ অন্যায়ের হাত বিরাটাকার ধারণ করবে। শুধু ভাল জামাকাপড় পরে ঘুরলে তাকে মানুষ বলে , মানুষ তাকেই বলে, যার মান সম্পর্কে হুশ থাকে?

পেটুক গোঁসাই ঠাকুর বিবেকের দংশনে তখন মাথা হেট করে শুধুই ভাবছে, বীর তাকেই বলে যে দুর্বলের কাছে মাথা নীচু করে কিন্তু যে সবলের কাছে মাথা উঁচু করে - তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাকেই তাে বীর বলে। আমি সত্যি সত্যিই বীর নয় ভীরু কাপুরুষ।

| ভূত অধ্যাপক রামদাস গুণ পেটুক গোঁসাই ঠাকুরের দিকে তাকিয়ে বললেন, আমি তােমার কলেজের সেই অধ্যাপক রামদাস গুণ। আমায় তুমি চিনতে পারােনি।। সেজন্য তােমার অপরাধ নয়, অপরাধ আমার। তবু বলি তুমি বাগনান স্টেশনে নামবার সময় ঐ মেয়েটিকেও নামিয়ে দিও। আর এই কথাগুলি মনে রেখাে রাষ্ট্র কি সমাজে, যেটা ভুল মনে করবে তার বিরুদ্ধে চিৎকার করে তােমার মনের কথা প্রাণ খুলে বলে যাবে? যদি তাতে শত বিপদ আসে মাথা পেতে মাথায় তুলে নেবে। একদিন দেখবে ঐ বিপদ তােমার বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়াবে। তখন দেখবে পৃথিবী জোড়ামানুষ তােমার হয়ে গিয়েছে বন্ধু।

অধ্যাপক অনেক দিন আগে মারা গিয়েছে, ভুলে গিয়ে পেটুক গোঁসাই ঠাকুর ভূত অধ্যাপকের পায়ে প্রণাম করবার জন্য যেই অগ্রসর হয়েছে অমনি ভূত অধ্যাপক চলন্ত ট্রেন থেকে নেমে কোথায় চলে গেলেন কে জানে?

পেটুক গোঁসাই ঠাকুর সহ ট্রেনের যাত্রীরা সবাই তার চলে যাওয়া পথের দিনে অবাক হয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল,লজ্জায় প্রত্যেকের মাথাটা হেট হয়ে গেলাে


Author : তারা কুমার ভট্টাচারিয়া
Date : 2019-07-13 17:08:24

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-: advertisement :-

-:Advertisement:-